সোমবার, ৭ জানুয়ারী, ২০১৩

মাইক্রোওয়ার্কার্স : ঘরে বসে আয়

মাইক্রোওয়ার্কার্স : ঘরে বসে আয়

ডাটা এন্ট্রি কাজ যারা করেন, তারা ভালভাবেই জানেন একটি ডাটা এন্ট্রি কাজ পাওয়া কতটা কঠিন। কমপিউটারের সাধারণ ব্যবহার জানলেই এ ধরনের কাজ করা যায়। এজন্য প্রায় প্রতিটি মার্কেটপ্লেসে এক একটি ডাটা এন্ট্রি প্রজেক্ট করতে শত শত আবেদন পড়ে। এদের মধ্য থেকে সুনির্দিষ্ট একজনকে বেছে নিতে ক্লায়েন্ট বা গ্রাহকদেরকে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে হয়। প্রথম কাজ পেতে কয়েক সপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় নতুন ফ্রিল্যান্সাররা কিছুদিন বিড করার পর কাজ না পেয়ে শেষে ফ্রিল্যান্সিং করার আগ্রহই হারিয়ে ফেলেন। আজকে যে ওয়েবসাইটের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে সেখানে কাজ করার জন্য কোনো বিড বা আবেদন করতে হয় না। অর্থাৎ ইচ্ছে করলে এই মুহূর্ত থেকে কাজ শুরু করে দেয়া যায়। আর কাজগুলোও খুব সহজ। সাইটটি হচ্ছে মাইক্রোওয়ার্কার্স : www.microworkers.com




প্রথম দর্শনেই সাইটটি সহজবোধ্য মনে হবে। মাইক্রোওয়ার্কার্স সাইটের কাজগুলো খুব ছোট ছোট। এক একটি কাজ করতে ৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। প্রতিটি কাজের মূল্য ০.১০ ডলার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১.৭৫ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাইটে প্রতিদিনই নতুন নতুন কাজ আসে। এখানে একটি কাজ মাত্র একবারই করা যায়। মোট আয় ৯ ডলার হলেই চেক, মানিবুকার্স, পেপাল এবং এলার্টপে সার্ভিসের মাধ্যমে উঠানো যায়।
মাইক্রোওয়ার্কার্স সাইটে একজন ফ্রিল্যান্সারকে Worker এবং একজন ক্লায়েন্টকে Employer হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সাইটে এ দুই ধরনের ব্যবহারকারী কিভাবে কাজ করে, তা নিচের কার্টুনের মাধ্যমে বর্ণনা করা হয়েছে।
Worker হিসেবে কাজ শুরু করার আগে প্রথমে সাইটে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে। এরপর মেনু থেকে Available Jobs লিঙ্কে ক্লিক করলে কাজগুলো দেখা যাবে। প্রতিটি কাজের শিরোনামের সাথে কয়েকটি তথ্য পাওয়া যায়- কাজের মূল্য (Payment), শতকরা কতজনের কাজ ক্লায়েন্ট গ্রহণ করেছে (Success Rate), কাজটি করতে আনুমানিক কত মিনিট লাগতে পারে (Time), কতজন এ পর্যন্ত কাজটি করছে (Done) ইত্যাদি। কোনো একটি কাজের শিরোনামের ওপর ক্লিক করে সেই কাজের বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। এর মধ্যে ‘What is expected from workers?’ অংশ থেকে কাজের বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যাবে। কাজটি যে আপনি যথাযথভাবে শেষ করেছেন, তা প্রমাণ দিতে কী কী তথ্য দিতে হবে, তা ‘Required proof that task was finished?’ অংশের মাধ্যমে জানা যাবে। সবশেষে ‘I accept this job’ লিঙ্কে ক্লিক করে একটি টেক্সটবক্সে আপনার কাজের প্রমাণগুলো দিতে হবে। কোনো কাজ করতে না পারলে ‘Not interested in this job’ লিঙ্কে ক্লিক করে বের হয়ে যাওয়াই ভালো, সেক্ষেত্রে এ কাজটি ‘Available Jobs’ পাতায় আর কখনো দেখাবে না।
কাজের বিভিন্ন ধরন
এবার দেখা যাক, সাইটে কী কী ধরনের কাজ পাওয়া যায় এবং সেগুলোর মূল্য সাধারণত কত হয়।
ক্লিক অ্যান্ড সার্চ (টাকা ০.১০-টাকা ০.১৫) :
এ ক্ষেত্রে তথা গ্রাহক একটি সাইটের লিঙ্ক দেবে, যাতে ভিজিট করে নির্দিষ্ট কিছু শব্দ দিয়ে সার্চ করতে হবে। সবশেষে ক্লায়েন্টের বর্ণনা অনুযায়ী এক বা একাধিক বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে হবে।
বুকমার্ক এ পেজ (টাকা ০.১০-টাকা ০.২০) :
গ্রাহকের কোনো একটি সাইটকে অন্য একটি সাইটে বুকমার্ক করতে হবে। এ ধরনের বুকমার্ক সাইটের মধ্যে রয়েছে digg.com, delicious.com বা mixx.com, যা ক্লায়েন্ট কাজের বিবরণীতে উল্লেখ করে দেবে। বুকমার্ক করার আগে ওই সাইটে আপনার একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
সাইনআপ (টাকা ০.১০-টাকা ০.২০) :
এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করার সময় আপনার ই-মেইল ঠিকানা দিতে হবে। এ ধরনের কাজ করার জন্য নিজের ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানা দেয়া ঠিক হবে না। এজন্য পৃথক একটি ই-মেইল অ্যাকাউন্ট খুলে সেটি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা উচিৎ। অন্যথায় স্পাম ই-মেইলের কারণে আপনার দরকারী ই-মেইল খোঁজে পাবেন না।
কমেন্ড অন আদার (টাকা ০.১০ – টাকা ০.১৫) :
এ কাজে গ্রাহকের ওয়েবসাইটে গিয়ে এক বা একাধিক মন্তব্য দিতে হবে। মন্তব্যগুলো সাধারণত দুই-এক লাইনের হবে এবং ওই ওয়েবসাইটের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
ফোরাম (টাকা ০.১০ – টাকা ০.১৫) :
এ ধরনের কাজের জন্য কোনো একটি ফোরামে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং Signature হিসেবে ক্লায়েন্টের কোনো ওয়েবসাইটের লিঙ্ক দিতে হবে। এরপর ওই ফোরামের এক বা একাধিক পাতায় সামঞ্জস্যপূর্ণ মন্তব্য পোস্ট করতে হবে।
ফেসবুক (টাকা ০.১৫ – টাকা ০.২০) :
এ ধরনের কাজের মধ্যে রয়েছে ক্লায়েন্টকে ফেসবুকে বন্ধু হিসেবে নেয়া বা ক্লায়েন্টের ভক্ত হওয়া অথবা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আপনার Wall-এ পোস্ট করা।
টুইটার (টাকা ০.১৫-টাকা ০.২০) :
এক্ষেত্রে twitter.com-এ একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং ক্লায়েন্টের অ্যাকাউন্টকে Follow করতে হবে অথবা নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে পোস্ট করতে হবে।
রাইট অ্যান আর্টিকল (টাকা ০.৫০ – টাকা ১.৭৫) :
মাইক্রোওয়ার্কার্সে পাওয়া কাজগুলোর মধ্যে এ ধরনের কাজ অর্থাৎ কোনো বিষয়ে ইংরেজিতে আর্টিকল লিখে সবচেয়ে বেশি আয় করা যায়। লেখাগুলো ৫০ শব্দ থেকে শুরু করে ৫০০ শব্দের মধ্যে হয়ে থাকে। এ ধরনের কাজে একদিকে যেমন ভাষাগত জ্ঞান বাড়ে তেমনি নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে জানা যায়। তবে যাদের ইংরেজিতে লেখায় দক্ষতা আছে, তারাই শুধু এ ধরনের কাজ করতে পারে। লেখায় তথ্য সংযোগের জন্য ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে অন্যান্য ওয়েবসাইটের সহায়তা নেয়া যাবে, তবে আপনার লেখাটা অবশ্যই মৌলিক হতে হবে। লেখা মৌলিক হলো কি না, তা www.copyscape.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যাচাই করা যাবে।
ব্লগ/ওয়েবসাইট ওনারস (টাকা ০.২৫-টাকা ০.৮০) :
অনেক সময় শুধু লিখলেই হবে না, লেখাটা আপনার জনপ্রিয় কোনো ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। এজন্য এধরনের কাজের নামের সাথে PR2+, PR3+, PR4+ ইত্যাদি লেখা দেখতে পাবেন। PR শব্দের মানে হচ্ছে Page Rank, আর PR2+ শব্দের মানে হচ্ছে যেসব ওয়েবসাইটের পেজ র্যাাঙ্ক ২ বা তার অধিক। এটি গুগলের একটি মানদন্ড, যা কোনো ওয়েবসাইট কতটুকু জনপ্রিয় তা নির্ধারণ করতে ব্যবহার করা হয়। একটি ওয়েবসাইটের পেজ র্যা ঙ্ক কত, তা www.prchecker.info ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানা যায়। এ ধরনের কাজ শুরু করার আগে www.blogger.com ওয়েবসাইটে গিয়ে বিনামূল্যে আপনার নিজের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে নিতে পারেন। প্রথম অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই পেজ র্যা ঙ্ক থাকবে। কিন্তু যদি নিয়মিতভাবে ওয়েবসাইটটিতে বিভিন্ন বিষয়ে ইংরেজিতে আর্টিকেল লিখেন, তাহলে কয়েক মাস পর পেজ র্যা ঙ্ক বাড়তে থাকবে। লেখার পাশাপাশি ভালো র্যা ঙ্কের কয়েকটি ওয়েবসাইটের সাথে লিঙ্ক বিনিময় করতে পারলে পেজ র্যা।ঙ্ক আরো তাড়াতাড়ি বাড়তে থাকবে।
ডাউনলোড অ্যান্ড/অর ইনস্টল (টাকা ০.২৫-টাকা ০.৩৫) :
এ কাজে কোনো সফটওয়্যার শুধু ডাউনলোড এবং কোনো কোনো সময় ইনস্টলও করতে হয়।
পোস্ট অ্যান অ্যাড অন ক্র্যায়েজলিস্ট (টাকা ০.২৫-টাকা ০.৭৫) :
www.craigslist.org হচ্ছে শ্রেণীবদ্ধ বিজ্ঞাপনের একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ওয়েবসাইট। এ ধরনের কাজের ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের দেয়া কোনো পণ্যের বিজ্ঞাপন craigslist.org সাইটে প্রকাশ করতে হয়। এজন্য আগেই সাইটটিতে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে।
অর্থ উত্তোলন
* শুধু ‘Satisfied’ রেটিং পেলেই সে কাজের টাকা আপনার অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্সের সাথে যুক্ত হবে।
* চারটি পেমেন্ট পদ্ধতির যে কোনোটিতে টাকা তুলতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিতে হয়। চেকের ক্ষেত্রে ৪.৫০ ডলার, পেপালের ক্ষেত্রে ৬%, মানিবুকার্স এবং এলার্টপে পদ্ধতিতে ৬.৫% ফি দিতে হয়।
* অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ৯ ডলারের বেশি হলেই শুধু টাকা তুলতে পারবেন। সাথে ফি দেবার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ অ্যাকাউন্টে থাকতে হবে।
* প্রথম Withdraw করার আবেদনের সময় আপনার বাসার ঠিকানায় চিঠির মাধ্যমে একটি PIN নাম্বার পাঠানো হবে। এই নাম্বারটি পরে সাইটে প্রবেশ করাতে হবে। কেউ একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছে কি না, তা যাচাই করতে এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়। PIN নাম্বারের চিঠিটি আসতে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগতে পারে।
* ঠিকানা যাচাই করার পর পরবর্তী Withdraw আবেদনের ৩০ দিনের মধ্যে আপনাকে মূল্য পরিশোধ করা হবে।
আমাদের দেশের অনেক ফ্রিল্যান্সার ইতোমধ্যে এই সাইটে কাজ করছেন এবং এরা সাইট থেকে নিয়মিত টাকা পাচ্ছেন। তবে একটা বাস্তব সত্য হচ্ছে, এই সাইট থেকে খুব বেশি পরিমাণে আয় করা যায় না। যারা পড়ালেখা বা অন্য কাজের পাশাপাশি ইন্টারনেট থেকে বাড়তি আয় করতে চান, তাদের জন্য এ সাইট অবশ্যই আয়ের একটি ভালো উপায় হতে পারে। এই সাইটের জনপ্রিয়তা এত বেশি যে, ইদানীং এ সাইটকে অনুসরণ করে আরো অনেক ওয়েবসাইট চালু হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে www.minuteworkers. com,www.rapidworkers.comwww.minijobz.com ইত্যাদি। তবে সেই সাইটগুলো থেকে মাইক্রোওয়ার্কার্সের মতো আসলেই টাকা পাওয়া যায় কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
Open an Account microworkers :- http://www.microworkers.com/
মানিবুকারস বাংলাদেশী ফ্রিল্যান্সারদের জন্য অর্থ উত্তোলনের সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি Open an Account :-https://www.moneybookers.com/

সবাইকে ধন্যবাদ।

1 টি মন্তব্য:

  1. মাইক্রোওয়ার্কার্সে সাইন আপ সম্পর্কে জানার জন্য এবং অন্যান্য খুঁটিনাটি বিষয় জানতে-

    ফ্রিল্যান্সিং : মাইক্রোজবস

    মাইক্রোওয়ার্কার্স : যেভাবে টাকা তুলবেন

    উত্তরমুছুন