বৃহস্পতিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১২

প্রতারক

আজকেও বাসা থেকে বের হতে দেরী করবে ছেলেটা, তারপর পড়ি মরি করি চোখে মুখে নাস্তা একটু দিয়েই দেবে দৌড়। ত্রিলয়, এই ত্রিলয়... বলতে নাস্তার প্লেট হাতে যেতে থাকেন ত্রিলয়ের রুমে। গিয়ে দেখেনত্রিলয় মনোযোগের সাথে পিসি চালাচ্ছে।

- এই তোর খাওয়া লাগবে না?
- রেখে যাও, খেয়ে নেব
- কয়টা বাজে সে খেয়াল আছে?
- কয়টা?
- ১০টা ৩০ বাজে
- এই সেরেছে......... ­......

বলেই ছুটল রুমের বাইরে, ব্রাশ করে,গোসল করে নাকে মুখে নাস্তা একটু গুজে বেড়িয়ে গেল ত্রিলয়। ছেলেকে নিয়ে সবসময় ই দুশ্চিন্তায় থাকেন ত্রিলয়ের মা, ছেলেটা যেভাবে রাস্তায় চলা ফেরা করে কবে না যেন কি অঘটন করে বসে, একটা মাত্র ছেলে তার। তাই টেনশন টা আরও বেশি হওয়াইস্বাভাবিক।

ত্রিলয় একটু পাগল টাইপ হলেও ফাজলামির বেলায় একেবারে সেরা, টেকনোলোজির বিষয়ে সে নেশার থেকে বেশি আসক্ত, বাসায় যতক্ষণ ই থাকবেমিউজিকে ঘর কাপাবে, আর একটার পর গেমস এর লেভেল কমপ্লিট করবে, আজ প্রিন্স অফ পার্সিয়া, তো কাল মাস এফেক্ট না হয় এন.এফ.এস চলছে। ত্রিলয়ের মায়ের ভাষায়, খাওয়া ঘুম ছাড়া তার ছেলের মুখ পিসি ছাড়া কেউদেখতে পায় না।

রাস্তায় বের হয়েই মনে পড়লো রাস্তা তো কাটা, রাস্তা ঠিক করা হচ্ছে, রিকশা নিলেও ঘুর পথে যাবে তাতে আরও দেরী হবে বরং হেটে যাওয়াই ভালো। বাস স্টপে আসতেই দেখে বাস দাড়িয়ে আছে, দেখেই রাস্তা এদিক, ওদিক এক ঝলক দেখেই দৌড়ে পার হয়ে গেল। টিকেট কেটে বাসউঠবে, ভাড়া ঠিক ই ডাবল দিচ্ছে কিন্তু গেটে বাঁদর ঝোলা হয়ে যেতে পারবে কিনা তাও সন্দেহ !! তার উপর ক্লাসে আজ প্রোজেক্টর বিষয়ে কাজ আছে, আগেই যেতে পারলেই ভালো, তারউপর ঢাকা সিটির যা জ্যাম, লাগতে পারলে হয় একবার ছাড়ার নাম আর করে না।

বাসে উঠে দাঁড়িয়েছে, তার পাশে এক লোক, আর তার পাশে দুইটা মেয়ে। লোকটার পায়ে মেয়ে দুইটার একজন পাড়া দিল, লোকটা ককিয়ে উঠে, আপনি আমার পায়ে পাড়া দিলেন কেন? আর বলবেই না কেন একেবারে পেনসিল হিলের পাড়া :p মেয়েটা অতি শুদ্ধ ভাষায় বলে ওঠে

- “আশ্চর্য, আপনার পায়ে আমি পাড়া দেব কেন? আপনি কি আমার পরিচিত নাকি”

- ওমা, তাহলে কি পরিচিত দের পায়ে পাড়া দিয়ে বেড়ান?

- আপনি আমার সাথে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করছেন কেন?

- পায়ে পাড়া দিলেন আমার, আবার বলছেন আমি আপনার পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করছি, বাহ ভালোই তো...
ত্রিলয় মিটি মিটি হাসছে, জনসংখ্যা বেশি হয়ে এই দেশে খারাপ হয় নি, এভাবে পাবিকের গুতা ঠাসা খেয়ে বাসে ঝুলে যাবার সাথে সাথে নির্মল বিনোদন ও পাওয়া যায়। মহিলা সিট খালি হতেই মেয়ে দুইটি সেখানে গিয়ে বসে, পাশের লোক চেপে দাঁড়ালে এবার সেও একটু বামে চেপে ভালো করেই দাড়ায়। কানে ইয়ার ফোনে এতক্ষণ পিটবুলের টোমা গানটা বাজছিল, গানের প্লে লিস্ট শেষ হওয়াতে পকেট থেকে মোবাইল বের করতে গিয়ে দেখে তার সামনে এক মেয়েবসে আছে... মেয়েটাকে দেখে তার ভালো লাগে... এবার সুন্দর মত মেয়েটার সিটের সাথে দাড়ায়, বাসের বাম পাশের সারির প্রথম সিটেই মেয়েটা বসে আছে, এতক্ষণ কেন সে দেখলো না সেই লজিক খোজা শুরু করেন, প্রোগ্রামার দের এই এক দোষ, কোড করার মত সবকিছুতেই লজিক খোজে। যাই হোক সে প্লে লিস্ট পাল্টে মেয়েটিকে দেখতে শুরু করে, দু’এক বার চোখা চুখি হয়ে গেল। মেয়েটা কাকে যেন মেসেজ করলো, মোবাইলের স্ক্রিন এক রকম ঢেকে মেসেজ করলো।
আবার ত্রিলয়ের লজিক খোজা শুরু, ত্রিলয়কে নিয়ে ওর ফ্রেন্ডরা প্রায়ই পচায়,বলে তোর যা স্বভাব তাতে তোর ল পড়া উচিৎ ছিল, কারন দর্শানো নোটিস দিতে পারতি, কি মনেকরে ত্রিলয় নিল কে মেসেজ দেয়, দোস্ত আমার তো এক মাইয়ারে পছন্দ হইছে, এঙ্গেজড কিনা বুজতাছি না, যামু? নিল হল ত্রিলয়ের সকল বদমাইশি আর অপকর্মের সাক্ষী। ওপাশ থেকে গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে রিপ্লাই আসে যা, আমি এদিক সামলে নিতেছি।

ব্যাস নেমে যায় মেয়ের পিছু মতিঝিল, মেয়েটা বোধ হয় এদিকের কোনকলেজে পড়ে, মেয়ের পিছু নেবে এমন সময় দেখে সেই মেয়ে দুইটাও এসে যোগদিয়েছে, বুঝতে আর বাকি নাই ঘটনা কি, তারা তিন বান্ধবী একসাথেই এসেছে। তা যাই হোক সে পিছু নেবেই, কিছুদূর যাবার পর ফোনে মেসেজ দেয় নিল, যেখানে খুশি যা ১২টার মধ্যে আসতেই হবে। এদিকে বাজে ১১.২০, তারানটরডেমের সামনে। এইদিকে ত্রিলয় যদি চলে যায়, মেয়েটার বিষয়
এখানেইসমাপ্তি, না গেলে ওদিকে প্রজেক্টা গোল্লায় যাবে, নিজেকে ঝাড়ি দিতে থাকে আজ সকালে নেটে না বসলেই হত। পরক্ষনেই ভিন্ন চিন্তাধুর নেটে না বসলে দেরী করে বের হতাম আর একেও দেখতে পারতাম। যাক দেরী করে ভালোই হল।

কি মনে করে মেয়েটাকে পিছন থেকে শুনছেন বলে চেচাতে সামনে চলে যায়।

- আমাদের বলছেন?
- হ্যাঁ
- বলুন
- আপনাকে না ওনাকে বলবো
- জি, আমাকে কি বলবেন বলেন, আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে
- আমারও দেরী হয়ে যাচ্ছে, এত আস্তেহাটেন কেন?
- বুঝলাম না, আপনি কি এটা বলতেই এসেছেন?
- এত শুদ্ধ ভাষা আমার ভালো লাগে না, আপনার ফোন নাম্বার দেন

বিস্ফোরিত চোখে সে বলতে শুরু করে...
- আমাকে দেখে কি পাবনা ফেরত মনে হয়?
- আমি কিভাবে বলবো ওখানে গিয়েছেন কিনা
- আপনি কোন সাহসে আমার নাম্বার চাইলেন?
- কেন আপনি কি বিশেষ কেউ নাকি, নাম্বার চাওয়া যাবে না?
- দেখুন, আপনাকে আমি চিনি না, আমার কথা বলবার ইচ্ছা নেই
- আপনাকেও আমি চিনি না, আপনার সাথেকথা বলবো তাই নাম্বার চাইছি

এমন সময় ফোনে আবার মেসেজ, তারতারিকর। ত্রিলয় ব্যাগ থেকে খাতা বের করে খচ খচ শব্দ করে নিজের নাম্বারলিখে মেয়েটিকে দেয়, বলতে শুরু করে,আমার দেরী হয়ে যাচ্ছে, নামটাও জিজ্ঞেস করতে পারলাম না, এই নাম্বার কল দিয়েন, কথা আছে বলেই উলটো দিকে দৌড়।
ত্রিলয় যেতেই নিরার বান্ধবী জুথিআর সামিয়া হাসতে শুরু করে, এইটার সার্কিটে ডিস্টার্ব আছে, জুথির সাথে সামিয়া গলা মিলায়, তালুকদার স্যারের ভবিষ্যৎ বউ রাস্তায় পাগলের পাল্লায়। নিরাদের কলজের বয়সে সবচেয়ে প্রবীণ হলেন এই স্যার, আর ক্লাস পারফরম্যান্স ভালো থাকায় নিরাকে বেশ ভালোই জানেন। হাসি কথার ফাকে মনের ভুলে কাগজটা ফেলে না দিয়ে ব্যাগে রেখে দেয় নিরা।
part 2 coming

"ছেঁড়া গল্প" part 2


part2

তার চোখের পানি।
জাহেদের অস্থিরতা বেড়েই চলেছে, সে চেয়েছিল মুমুকে চমকে দিতে, সেজন্যই না বলেই এবার রাজশাহী যাওয়া। বেলা বারোটা, কিন্তু এখনও মুমুর ফোন বন্ধ, একবার মনে হলো কোনোভাবে কি টের পেয়েছে ও জাহেদের আসাটা? হয়তো উলটো তাকে
 ভয় দেখনোর জন্য এটা করছে, এটা মুমুর জন্য নতুন কিছু না। এর আগেওজাহেদকে এভাবে ভয় দেখিয়েছে সে। কিন্তু এত বেলা করে কোনও দিন তার ফোন বন্ধ থাকে না। আবার কল দিলো সে, অপর পাশ থেকে অপারেটর এর সেই চেনা পরিচিত যান্ত্রিক স্বর ভেসেআসে।

--------------- --------------
পাঠকরা হয়তো মনে মনে ভাবছেন এর পরে কি হলো? মুমু কেন ফোন ধরলো না?কি হলো ওদের শেষ পর্যন্ত? মুমু কিদেখা করেছে জাহেদের সাথে?? অসম্পূর্ণ একটি কাহিনী, তাই না? আমিতো আগেই বলেছি যে গল্পের নাম “ছেঁড়া গল্প”, তাছাড়া জীবনের সব গল্পই কি ছেঁড়া নয়? আমাদের গল্পগুলো কি কখনও শেষ হয়? জাহেদের ছেঁড়া জীবনের গল্পও শেষ হয়না, শুধু কিছু ঘটনা যা পাঠকদের জানাচ্ছি, পরিশিষ্ট হিসেবে নয়, গল্পের একটি অংশ হিসেবে।

--------------- ---------------
মুমু চার বছর আগেই মারা গিয়েছে। যে গভীর মমতায় সে জাহেদের জীবনকে ঘিরে রেখেছিল, জাহেদ সেই মায়া থেকে বের হতে পারেনি, হয়তো কোনদিনপারবেও না। তার জীবন আজও চার বছর আগে স্থির হয়ে আছে, যার কাছে মুমু স্মৃতি না, বাস্তব হয়ে বেঁচে আছে।যে এখনও প্রতি মাসে রাজশাহী যায় মুমুর সাথে পদ্মা পাড়ে একটি গোধূলি পার করতে, আজও ছবি তোলে শুধু মুমুকে একবার বিস্মিত করার জন্য,মুমুর বন্ধ মোবাইল ফোনে কল করে যায় মনে আশা নিয়ে হয়তো কোনোদিন খোলা পাবে। টি বাঁধের সেই বেঞ্চে দুই প্লেট ফুচকা নিয়ে জাহেদকে এখনও বসে থাকতে দেখা যায় মুমুর পোষা কাকগুলোর সাথে সূর্যাস্ত দেখতে। কখনও যদি আপনি যান সেখানে, দেখবেন সূর্যাস্তের ঠিক আগে এলোমেলো কাকের দল বেঞ্চটিকে ঘিরে বসে আছে। তাদের মধ্যে রহস্যময় নীরবতা, যেন তারা অপেক্ষা করছে কারও জন্য।

“ছেঁড়া গল্প” 1...



নভেম্বরের এই সময়ে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কথা না, তীব্র বাতাসের সাথে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো বাসের জানালার কাঁচে এসে পড়ছে, ধীরে ধীরে ঝাপসা হচ্ছে বাইরের সব কিছু, বৃষ্টির পানির কাঁচ বেয়ে এলোমেলো খেলা, চাইলেই ছবিটা তুলে রাখতে পারে জাহেদ,
 এই কাজটা সে প্রায়ই করে, একই ছবি, কিন্তু সে তোলে একেকভাবে, এই কাজটা সে করে মুমুকে চমকে দেয়ার জন্য, কিন্তু প্রতিবারই মুমু নির্লিপ্ত থাকে। সে কোন কিছুতেই চমকায় না, জাহেদেরধারণা এই মেয়ের মাথায় সমস্যা আছে,তীব্র কষ্টের মধ্যেও যে মেয়ে হাসিমুখে থাকে তার মাথায় সমস্যা ছাড়া আর কি থাকবে?
একবার সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে মুমুর পা এমন মচকালো, গোড়ালি ফুলে ঢোল। খবর পেয়েই জাহেদ বাসে উঠে পড়ে,ঘরেঢুকেই বিশাল এক ধাক্কা খেলো, মুমুফোলা পা নিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসে কি জানি খাচ্ছে, পা ফুলে হুলুস্থুল অবস্থা, এই অবস্থায় হাসছে কিভাবে এই মেয়ে?
ওই পাগলা,কতবেল ভর্তা খাবা? মুমুরমুখে বিশাল একটা হাসি।
তুমি কি মানুষ? জাহেদ হতভম্ব।
কষ্ট হচ্ছে এতদিন পেত্নির সাথে ছিলে ভেবে? মুমুর মুখে চাপা হাসি।
জাহেদ তাকিয়ে থাকে।
কি হলো? খাবা ভর্তা?
ব্যাথা কি খুব বেশি?
খুবি বেশি স্যার, কিন্তু আপনাকে দেখে ব্যাথা আরও বেড়ে যাচ্ছে ।
চলে যাব?
অবশ্যই চালে যাবেন।
জাহেদ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।
আমার সামনে এইভাবে পর্বত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন না, চলে গেলে যান, আর না গেলে আমার পাশে এসে বসেন, শর্ত একটাই যতক্ষন থাকবেন মুখটা এমন বাংলার পাঁচের মত করে রাখবেন না আর আমার হাতটা শক্ত করে ধরে বসে থাকবেন।
এই হলো মুমু।
জানালা লাগিয়ে দিল জাহেদ, বৃষ্টির ফোঁটা বেশ জোরেই বাসের ভিতরে আসছে, ভিজতে ইচ্ছা করলেও সেটা সম্ভব না পাশে বসা মুরুব্বীর জন্য। তিনি কিছুক্ষন পর পরই রুমালে নাক ঝাড়ছেন শব্দ করে, ঝাড়ার পরে বিচিত্র একটা শব্দকরছেন, যদিও সে বুঝতে পারছে না সেটা ইচ্ছাকৃত কিনা।
সকাল সাতটায় বাস ছাড়ার কথা থাকলেও এক ঘণ্টা দেরী করে ছেড়েছে,যেভাবে বৃষ্টি পড়ছে সে হিসাব করলে মনে হয় না দুপুরের আগে রাজশাহী পৌঁছান যাবে, পূজার পুরো ছুটিটা এবার সে মুমুর সাথেই কাটাবে বলে ঠিক করেছে,প্রতিমাসে একবারের জন্য হলেও সে রাজশাহী আসে মুমুর সাথে টি বাঁধে তাদের নির্দিষ্ট বেঞ্চে বসে ফুচকা খেতেখেতে সূর্যাস্ত দেখার জন্য। জাহেদ অবশ্য খায়না, মুমু খায় সে দেখে। আশে পাশের সব কাকগুলো তখন এলোমেলোভাবে তাদের ঘিরে বসে থাকে। মুমু জাহেদের প্লেট থেকে ফুচকা নিয়ে কাকদের খাওয়ায়। শেষ হলে আবার আরেক প্লেট নেয়া হয় শুধুকাকদের খাওায়ানোর জন্য। তার জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে কিন্তু করে না। ও জানে মুমু এমনই। ও এও জানে কাক পোষ মানার পাখি না, কিন্তু টি বাঁধের সেই কাকগুলো মুমুর পোষ মেনেছিল।
পাশের মুরুব্বী নড়াচড়া করছেন অনেক্ষন ধরে,উশখুশ করছেন। একবার গলা খাকারি দিলেন, মনে হচ্ছে বসে আরাম পাচ্ছেন না। বার বার সিটের পাশের লিভার টেনে নিচে নামাচ্ছেন, আবার উঠাচ্ছেন। জাহেদনিজে চেপে বসেছে যাতে মুরুব্বির বসে সমস্যা না হয়, তারপরেও মনে হচ্ছে তার বসাতে আরাম হচ্ছে না। কিছু মানুষ জগতে থাকে এরা কিছুতেই সন্তুষ্ট হতে পারে না। এরা নিজেরা অস্থির, আশেপাশের সবাইকেও অস্থির করে রাখে। যেমন এখন জাহেদ সামান্য অস্থির বোধ করছে, কারণ মুমুর ফোন বন্ধ।
জাহেদ নিশ্চিত যে কপাল খারাপ আজকে তার, মুমু হয়তো রাগে দেখাই করবে না। এই মেয়ের রাগও তার মতই মাথা নষ্ট, কখন রাগ হয় আর ঠাণ্ডা হয় আজ পর্যন্তও সে বুঝে উঠতে পারেনি। মুমুর মোবাইল ফোন এখনও বন্ধ বলছে, সকাল থেকে কয়েক বার কল দিয়েছে, অপারেটর এর যান্ত্রিক স্বরে প্রতিবারই একই কথা ভেসে আসে। দরকারের সময় তার ফোন বন্ধই থাকে, এ নিয়ে তার সাথে ঝগড়াও করেছে কয়েকশবার, ঝগড়াতে সাধারণত দুপক্ষ থাকে, তাদের ক্ষেত্রে এক পক্ষ,যা বলার মুমুই বলে, জাহেদ মাথা নিচু করে থাকে, সে কোনবারেই কিছু বলতে পারে না। একবার শুধু জিজ্ঞেস করেছিল মুমু রাগ কি ওর বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে কিনা, আর যায় কোথায়,সাত দিন কথা বন্ধ। এই মেয়ের সব কিছুই এলোমেলো।
কতবার কত প্রদর্শনীতে জাহেদের ছবি গিয়েছে, জাহেদের মনে ক্ষীণ আশা থাকতো প্রতিবারই মুমু তাকে চমকে দিয়ে হলেও থাকবে শেষ পর্যন্ত, কিন্তু সে আসতো না। যতবারই তাকে এটা নিয়ে জিজ্ঞেস করেছে জাহেদ সে নির্লিপ্তভাবে বলেছে, ধুর ধুর আমি ছবির কি বুঝি।
যেই মানুষটার জন্য আমি ছবি তুলি সেই মানুষটা থাকবে না?
মুমু হাই তুলতে তুলতে বলে, তোমার সব ছবিতো আমার, আমার জিনিস আমি যখন ইচ্ছা তখন দেখব, অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখতে হবে নাকি?
মুমু কোনোদিন কোন প্রদর্শনীতে আসেনি ছবি দেখতে, একবার শুধু একটাচিঠি লিখেছিল, চিঠি বলা ভুল হবে, চিরকুট বলাই ভাল। সম্পূর্ণ পৃষ্ঠাতে কেবল একটা লাইন, “পাগলা, তুমি কি জানো তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ফটোগ্রাফার?”
জাহেদের দশ বছরের ফটোগ্রাফি জীবনে সব থেকে বড় অর্জন ছিল সেটা।
সবে বাস টাঙ্গাইল পার করলো, ঘড়ি দেখল জাহেদ, এগারটা মাত্র। সমস্ত পথে একই ভাবে বৃষ্টি পড়ছে, জানালাদিয়ে গড়িয়ে পড়ছে পানি। পাশের মুরুব্বি মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছে। কোনো সাড়া শব্দ আসছে না, মুখের ওপরে রুমাল দিয়ে ঢাকা, ভারি নিঃশ্বাসের সাথে রুমাল হাল্কাভাবে কাঁপছে, বোঝা গেল ঘুমিয়ে পড়েছে। এই মানুষগুলো কত শান্তিতেই না আছে; মাঠে, ঘাটে , গাড়িতে কত তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ে, আবার ঘুম ভাঙ্গার পরে এমন ভাব করেযেন রাতের ঘুম পার করে এসেছে। জীবন মনে হয় এদেরই।
ভিজতে ইচ্ছে করছে খুব, শেষবার ভিজেছিল মুমুর সাথে সাহেব বাজার থেকে টি বাঁধে যাওয়ার সময়। প্রফেসর পাড়া পার হতেই চলন্ত অটো থেকে ঝাঁপিয়ে রাস্তায় নেমে দুহাতমেলে ধরে জাহেদ, মুমু নিঃশব্দে তার পাশে এসে দাঁড়ায়। বৃষ্টির ফোঁটা ছাপিয়ে চিৎকার করে জাহেদ,তোমার মাইগ্রেনের ব্যাথা উঠবে, তুমি ভিজো না।
আমি ভিজবো, চাপা গলায় বলে মুমু।
অসহায় বোধ করে জাহেদ, কেন এমন করছো?
ব্যাথা আমার হবে, কষ্ট তোমার হবে, অটো থেকে ওইভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার শাস্তি।
দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকে, পানিতে মুখের সাথে চুল লেপটে গিয়েছে মুমুর, পরিস্কার বুঝতে পারে জাহেদ যে মুমু কাঁদছে, বৃষ্টির পানিতে চোখের পানি আলাদাকরা যায় না, তাও সে বুঝতে পারছে। আরেকটা জিনিস সে সেদিন বুঝলো, একটা মেয়ের সব থেকে বড় অলঙ্কার

রবিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১২

{এত কষ্ট কেন ভালোবাসায়}



. ওর নাম শ্রাবণ। শ্রাবণ চৌধুরী। ৫ ফূট ৭ ইঞ্চি ঊচ্চটা। এলাকায় ওচেণা নয় কারও। কারণ ওর বাবা। বাবা এমপি। তাই সবাই ওকে সমীহ করে । তবে ভালো ছেলে হিসাবেও ওর নাম আছে। শুধু এক জন ই ওকে এড়িয়ে চলে । রাত্রি । বুজতে পারে না ও। কেন ওকে এড়িয়ে চলে মেয়েটা। অনেক বারই ওকে বলেছে ও ‘ভালোবাসি তোমায়’ । প্রতি বারই এরিয়ে গেছে রাত্রি। এক রাশ হতাশায় প্রতি বারই ভেঙ
্গে পড়েছে শ্রাবণ। আর ভেবেছে কেন এমন হয়। আজ আবার অনেক আশা নিয়ে ওর সামনে এসে দাঁড়িয়েছে । ‘রাত্রি শোন’ ।পীচূ ডাকে ও। ‘জী ‘ । দাড়ায় রাত্রি। ‘তুমি ত জান আমি তোমাকে…।’ কথা শেষ করতে পারে না ও। ‘আমি ত আপনাকে বলেছি ,এখণ আমি এ নিয়ে ভাবছী না’ । ওকে থামিয়ে দিয়ে বোলে রাত্রি। ‘ওকে শুধু এ টূকূ বোল আমায় ঘেণা কর না’। ‘আমি কাঊকে ঘেণা করি না’। ‘শূনে ভাল লাগল, ভাল না বাস ঘেণা ত কর না’ চলে যায় ও। পিছু চেয়ে থাকে শ্রাবণ। আন মনা হয়ে যায় ও। দূরে দাড়িয়ে ওদের দেখছিল ওর বন্ধু রাকীব। কাছে এসে ওর পিঠে হাত রাখল । ‘কিরে দোস্ত ,কী ব্যাপার? ‘ ‘রাত্রি আমাকে এড়িয়ে যাচ্ছে’ হতাশ কোণ্ঠে বোলে ও । ‘ওকে ভালবাসিস আগে বলিসনি কেন ‘ ‘কী ভাবে বলব ওতো আমাকে এড়িয়ে চলছে’ । ‘ওটা কোন ব্যাপারই না, আমি সব মেণেজ করে দেব, তবে একটা শর্ট আছে’ ‘কী শর্ট’? ‘বোল ও রাজী হলে চাইনিজ খাওয়াবী?’ ‘ওকে খাওয়াবো’ ‘প্রমীজ’। হাত বাড়ায় রাকীব। ‘প্রমীজ’। হাতে হাত চালীয়ে বলে শ্রাবণ। ********* শেষ বিকেলে নূপুর পায়ে বিদায় নিচ্ছে সূর্য। কূয়াশা ণেমে আসছে । চাদর বিছিয়ে ঘিরে নিতে চাচ্ছে। কর্ম বেষ্ট সবাই ফিরে যাচ্ছে ।রাস্তায় দাড়িয়ে রাত্রির জন্য অপেক্ষা করছে রাকীব। বেশী অপেক্ষা করতে হোল না । একটা রিকশায় চেপে ওর দিকেই আসছে ও ।রাত্রি ওর ছোট বোন নীলার বান্ধবী ।আসতেই ডাক দিল ও । ‘রাত্রি শোন’ । ‘জী ভাইয়া’ । রিকশা দাড় করায় ও। ‘তোমার সাথে কীছূ কথা ছিল’। ‘জী বলুন’ ‘তুমি ত শ্রাবণ কে চেন’। ‘জী চিনি’। ‘ও আমার ভাল বন্ধু , কিন্তু দুঃখের কথা ওর খূব অসুখ।’ ‘কী হয়েছে ওনার’? ‘ওর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পরেছে, ডাক্তার বলে দিয়েছে বড় জোড় ৬ মাস বাচবে’। ‘কী বলছেন আপণী মাএ ৬ মাস’! ‘হা ৬ মাস, তাই আমরা ওকে সব সময় খূশী রাখতে চাই’,ও তোমাকে খূব পছন্দ করে , ওকে কী কটা দিন সঙ্গ দেয়া যায়’। ‘ ভাইয়া আমি ভেবে দেখব’। ‘ওকে দেখও’। ‘আসি’ ভাইয়া’। ‘ওকে আস’। রিকশা কুয়াশার চাদর ভিতর হারিয়ে যায় । রাকীবের চোখ খুশীতে ণেচে ঊঠে । কাল ই চলবে চাইনিজ ! আহ! কত দিন এমন সুযুক এলো ! ******************* অনেক দিন পর আজ খূব সাজতে ইচ্ছে করল রাত্রি র । কেন জানি এক ভাল লাগায় মন ভরে আছে। তাই আজ সময় নিয়ে সাজল ও। নীল শাড়ী নীল টীপে ওকে অবশরা অবশরা লাগছে। আয়নায় নিজেকে দেখে মিষ্টি হাসল ও। এক এক করে ১৮ বসন্ত কবে চলে এল বুজেইনি ও। আজ ফাগুনের ১ তারিখ তাই বুজি মণে আজ এত আমেজ! এত ভাল লাগা ! এত আবেগ ! একটা রিকশা নিয়ে সোজা চলে এল পাড়ার ক্লাবের সামনে । ও জানে এখানেই পাবে শ্রাবণ কে। সারা দিন এখানেই আডডা দেয় ও । রাত্রি কে দেখেই ডাক দিল শ্রাবণ। ‘রাত্রি’ ‘বল শ্রাবণ’। ‘রাত্রি আমি তোমাকে……।’ ‘আমি জানি শ্রাবণ’। ওকে থামিয়ে বলে ও। ‘তুমি সত্যি……।’ ‘হু’ম’। মাথা নাড়ায় রাত্রি। ‘ঊঠে এসো রিকশায়।’ নিমন্তন জাণায় ও। ঊঠে বসে শ্রাবণ। রিকশা এগীয়ে চলে । চূপ চাপ দুজন। যেণ ধর্মঘট ডেকেছে কেঊ! আসলে কেহই কথা খূজে পাছছে না। ‘কোথায় যাবে’? নিরাবটা ভাঙ্গে শ্রাবণ। ‘জানি না, কোথাও আজ হারিয়ে যেতে মন চাইছে!’ ভীষণ ঊছছল আজ রাত্রি! ‘তাই!’ ‘হুম’। ‘সাথে আমাকে নেবে না’ ‘নেব’। বলে শ্রাবণের হাত টা নিজের হাতে তুলে নেয় রাত্রি। হঠাৎ চিৎকার করে বলে ওঠে শ্রাবণ I LOVE YOU RATRI………. ‘এই তোমার কী হয়েছে !’ ‘আমি স্বপ্ন দেখছি রাত্রি ‘! ‘এখন’! হেসে উঠে ও। ‘হা’। ‘হয়েছে রাতরে দেখ!,এখন চল রমনায় যাই, আজ ফাগুনের মেলা আছে।’ ‘আজ তুমি যেখানে নিয়ে যাবে যাব’, সূদু তুমি পাশে থেকো! ‘আচ্ছা থাকবো’। রিকশা এসে থামল রমনা পার্কের সামনে। ভাড়া চূকীয়ে ভীতরে ডূকে ওরা। আজ দারুণ সাজে সেজেছে প্রকেতি । সবাই আজ জোড়ায় জোড়ায় এসেছে। তরুণীদের খোপায় শোবা পাচ্ছে ফুল। ওরা গুরে গুরে দেখে সব সারি সারি দোকান । একটা জিনুকের দোকানের সামনে এসে দাড়ায় ওরা। শ্রাবন খুব সুন্দর দেখে একটা জিনুকের মালা কিনে দেয় রাত্রি কে। যত্ন করে রাত্রি কে পরিয়ে দেয় শ্রাবণ । ‘কি খাবে বল?’ ‘চতপতি আর ফুস্কা’। ‘তোমার খুব প্রিয় বুজি?’ ‘হুম ,খুব’। খাবার সেরে ওরা একটা জাউ গাছের নিছে এসে দাড়ায় । নিজেদের খুব সুখি মনে হয় ওদের । ‘শ্রাবন আমাকে কেমন লাগছে? ‘ ‘অপ্সরা’ ‘দূর’ ‘সত্যি!’ ‘কচু! ভেংছি কাটে রাত্রি । ‘এই ৩ সত্যি বলছি! ‘ ‘হয়েছে চল এবার ,মা চিন্তা করবে ‘ ‘এখনি যাবে, আরেক্তু থাক না! ‘আজ না চল’ । ‘ওকে ম্যাম চলুন ‘। **************************** ক্লাস শেসে সবাই ওকে গিরে ধরে। ”রাত্রি ডুবে ডুবে জল খাওয়া হছেছ?” বলে নিলা । ‘ওমা,তাই নাকি, কে ওই হিরো টা? সবাই এক সাথে বলে উঠে। রাত্রি চুপ করে থাকে। ওকে চুপ থাকতে দেখে নিলা বলে ”হিরো শ্রাবণ চৌধুরী”। ‘ওমা তাই নাকি’ । বাবা ত এম পি , ছেলে কি? ‘ছেলে ব্যবসাহি’ ‘ভাল খুব ভাল ‘। নিলা ও রাত্রি সবার থেকে আলাদা হয়ে কলেজের কমন রোমে এসে বসে । ‘এবার বল আমাকে না জানিয়ে ডুবে ডুবে জল খাওয়া হছছে? ‘আসলে রাকিব ভাই ও দিন বলল ,ওর নাকি খুব অসুখ তাই…’ ‘এই তাহলে কাহিনি ,তুই জানিস না , রাকিব একটা মিথ্যুক, শ্রাবণ ভাইয়ের কোন অসুক নেই’ ‘সত্যি!’ ‘হা সত্যি! ‘ত এখন আমি কি করব!’ ‘কি করবি আবার ভুলে যাবি’ । ‘হুম’ মন খারাপ হয়ে যায় ওর। আজ আসি নিলা ভাল লাগছে না’। আছছা যা’ একটা রিক্সা নিয়ে সোজা চলে আসে বাসায় , নিজ রোমে ডুকে দরজা বন্দ করে দেয় ও। কান্না পাচ্ছে । ‘এখন কি করব আমি।কেন ও এমন করল! ও দূরে ছিল ভাল ছিল ! কেন কাছে এলো । নিজের সাথে রিতি মত যুদ্দ সুরু হল যেন ওর। কোথায় যেন কিছু একটা এলোমেলো হয়ে গেছে। ‘ওতো অনেক বার বলেছে, কোন ছলনা করেনি। চেয়েছে আমার ভালবাসা, আমি ই এরিয়ে গেছি । অপমান করেছি। তবুও আশা ছারেনি’ । আমাকে শুধু ভালবেসে গেছে ‘।’ওতো খারাপ ছেলে নয়,দেখতে ভাল, লাজুক’ । ‘ তাহলে কি আমি সত্যি ই ওর প্রেমে পরে গেছি ? নিজেকে অবয় দেয় ও । হা আমি ওর প্রেমে পড়েছি, ওকে ভালবেসে ফেলেছি’ ।’কোন ভুল করিনি । ভাবতেই আনমনা হয়ে যায় । মনে মনে বলে শ্রাবণ i love you…………… ****************

=====কঠিন লাভার====

এটি একটি Break up hobar golpo আজ(০৫.০৮.২০০৮) ওর শেষ পরীক্ষা সম্ভবত।আজকে যদি ওর দেখা না পাই তবে আর জীবনেও পাবো না।এমন একটি আশা নিয়ে খুব জিদ করে যাই নিউ মার্কেট এ দেখা করতে।ওর 
সাথে দেখা হয়নি দীর্ঘ সাত মাস।ওর ক্লাসমেট ২ টা থেকে জানলাম আজকেই ওর পরীক্ষা শেষ এবং আজকের পরিক্ষার পরেই মনে হয় ওর ফ্যামিলি ওকে ট্রান্সফার করে চিটাগাং নিয়ে যাবে।এইসব আমি শুনেছি ওর ক্লাসমেট দের থেকে।মনের ভিতরে তো আরও ভয় ঢুকে গেল। শালা,প্রেম করছে আমার সাথে,বিয়া হবে অন্যের সাথে। তা কিভাবে হয়? আজকে যেভাবেই হোক তুলে নিয়ে আসমুই ওরে।আমার একটা ফ্রেন্ড ও যাবেনা আমার সাথে।কারন ইডেন কলেজের সামনে কোন ঘটনায় তারা জড়াতে চায়না। জানে,কপালে শনি আছে তাদের এবং আমার যদি ধরা পরি। ওর সিট পরেছে ঢাকা কলেজে।যেহেতু ও ইডেনের ছাত্রি। ঠিক ১ টায় পরীক্ষা শেষ হবে জানি।আমিও ওকে দেখায় আশায় সকাল থেকে না খেয়ে চন্দ্রিমা মার্কেটে সিগারেট একটা পর একটা মুখে নিয়ে দারিয়ে আছি।কখন যে আসবে ও। ১ টা বেজে গেছে।সব বের হচ্ছে ঢাকা কলেজ থেকে। আমি জানি ওকে চন্দ্রিমার সামনে দিয়ে যেতে হবে।যেহেতু ওকে যেতে হবে প্রতিদিনের মতই ফাল্গুনে করে রামপুরা মামার বাসায়। ১ টার পরে দেড়টা বেজে গেছে।এখনো সেই আসছেনা।দিলাম Turjo রে কল।কিরে ব্যাটা এতো মাইয়া রে বের হইতে দেখি ওরে দেখিনা কেন?ও বলে,দেখ ভিড়ের মধ্যে তোর চোখ ফাকি দিয়ে চলে গেল কিনা।আমি বললাম,ওর আগা ছে গোঁড়া আমি চিনি।ও বোরকা পরুক আর নাই পরুক আর তালেবানি মহিলাদের মত পুরো শরীর ও যদি ঢিলা- ঢালা বোরকা দিয়ে ঢেকে আসে তবুও আমি হাজার মেয়ের মাঝে থেকে বেঁছে নিবো। ২ টা দশ বেজে গেছে।হঠাৎ দেখি তাহার মতই কেউ একজন আমার নজরে পরছে।সাথে ৩/৪ টা ইবলিশ টাইপ মাইয়া মানুষ।আমার জানা আছে এইগুলারে ভালো করে। তবে নেই একজন জল্লাদ নারী ওর ক্লোজ ফ্রেন্ড “জেরিন”।এই মহা সুযোগ তাহলে।কেউ আমাকে আজকে আঁটকাতে পারবেনা। ঠ্যাং তো পুরাই কাপাকাপি শুরু হয়ে গেল। পিছু পিছু হেটে যাচ্ছি এই দলের সাথে ফাল্গুনের কাউন্টার এর দিকে। ঠ্যাং কাপাকাপি মাঝেও কল দিলাম আবার তুর্য রে। কিরে ব্যাটা আমার তো এই অবস্থা।ও সামনে দল নিয়ে হাঁটছে। আমি পিছু পিছু যাচ্ছি।তখন আমি কেদেই দিলাম ওকে এত মাস পরে দেখতে পেয়ে।তুর্য আমাকে একটু সাহস দিয়েই কল কেটে দেয়।নিলখেত মোড়ের কাছে যেয়েই ওর ফ্রেন্ড রা রাস্তা পার হতে যেয়েই পেছনে তাকায় আর আমাকে দেখে ফেলে।দেখেই ওকে বলে দেয়,দেখ প্রিয়া,ইউসুফ তোর পেছনে।:-O ও আমার দিকে এমন ভাবে তাকায় যেদিন ওর সাথে আমার প্রথম দেখা হয় সেদিন যেমন ভাব নিয়েছিল আজকেও তেমন ভাব নিয়ে তাকিয়ে বলে,তুমি এখানে?কেন আসছ?চলে যাও এখান থেকে।নাহলে অবস্থা খারাপ হবে বলে দিলাম কিন্তু। এইসবে কি আমি আর তোয়াক্কা করি? ততক্ষনে উনার ফ্রেন্ড রা ভাগছে আমাকে দেখেই।৫/৬ মিনিট রাস্তা পার না হয়েই বক বক করলাম দুজনেই। রাস্তা পার হয়ে ফাল্গুনের কাউন্টারে আর ওর যাওয়া হয়নি যেহেতু আমার হাতে ধরা পরছেই।কাউন্টার এর একটু আগেই শুরু হল দরবার দীর্ঘ ৭ মাসে যা যা অপকর্ম আমার দ্বারা হয়েছিল তার।এভাবেই তর্কাতর্কী তে সময় চলে যাচ্ছে।আমিও ওকে আজকে তুলে নিয়ে যাবই যাব।কিন্তু আমি একলা।কিভাবে সম্ভব?বন্ধুদের ফোন দিলেও লাভ হচ্ছেনা।কেউ এই নিলক্ষেতের মোড়ে আসবেনা গেঞ্জাম করতে।ঠ্যাকা তো আমার।আমাকেই করতে হবে।ওদের কথা,তুই কোনোরকম চিটাগাং রোডে নিয়া আয়।বাকি সব আমরা করবো। যাক,এই তর্কাতর্কী তে অনেক পাব্লিক এসে নাক গলাইছে। ভাই,কি হচ্ছে এইসব?বাসায় নিয়া যান।যা করার ওখানেই করেন।আমি জবাব দিলাম,যায় না তো ভাই।গেলে তো এত কিছু হয়না।:-D ওর কথা,ও আমার সাথে যাবেই না।আসল কাহিনি হচ্ছে (অনেক দিন পরে জানলাম),আজকে ওকে ওর মামার বাসায় কোন একজন টাক মাথার এডভোকেট(চোর জাতি) ওকে দেখতে আসবেন।তাই উনার মন পরে আছে সেখানেই। সেইদিন যদি আমি তাকে ছেড়ে দিতাম তবে আজকে সেই ব্যাটার বউ হইত সে। সময় হয়ে গেছে বিকাল ৪ টা।সেই এক জায়গায় ই দুজনে দারিয়ে বক বক করেই যাচ্ছি।ও তো যাবেইনা।আর আমিও তাকে ছাড়া যাবোইনা। অনেক সিএনজি কে ডাকলাম কিন্তু কেউই যাবেনা চিটাগাং রোডে।তাহলে উপায়? বোরাকে যেতে হবে।বোরাকের কাউন্টার রাস্তার ঠিক ওপারেই।ওর হাত ধরেই আছি আমি।ছেড়ে দিলেই পাখি উড়াল দিবেই মাস্ট। জোড় করে রাস্তা পার করালাম।রাস্তার দুপাশ থেকে মানুষজন দেখেই হাসাহাসি করতেছে।কি অবস্থা। :-O ওকে হাতে ধরে নিয়ে আসলাম গার্হ্যস্থ অর্থনীতি কলেজের গেটের সামনে।ওখানেই কাউন্টার।গাড়ির জন্যে অনেকেই দারিয়ে আসছে।আমিও দাঁড়ালাম।আর উনি ভেগে যাওয়ার চিন্তা করতেছে। আমি মানি ব্যাগ ১ হাতে নিয়ে টাকা দিলাম কাউন্টারে টিকিটের জন্যে।অন্য হাতে সে।আমি ১ হাতে টিকেট আর মানি ব্যাগে টাকা রাখতে পারছিলাম। তাই মানিব্যাগ টা টেবিলে রেখে ১ হাতে টাকা ঢুকাচ্ছি মানিব্যাগে।এই ফাকে উনি চান্স পেয়ে দিছে পাম্পের দিকে দৌড়।আমিও মানিব্যাগ ফেলেই দিলাম দৌড় উনার পেছনে পেছনে।উনাকে ধরে নিয়ে আসলাম আবার কাউন্টারে।এসেই দেখি মানিব্যাগ ঠিক মতই আছে। কারন কাউন্টারের আশেপাশের সব আমার ব্যাপারে এতক্ষনে আন্দাজ করে ফেলেছেন।যাক গাড়ি আসলো। উনি গাড়িতে ও উঠেনা।সবাই উঠে গেল।আমি ২ টা সিট রেখে দিলাম আগে থেকে চিৎকার দিয়ে। উনাকে কোলে নিলাম।নিয়ে কোন রকম গাড়িতে উঠে বসলাম আর গাড়ি ছেড়ে দিল।সব মানুষ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আমদের দিকে। :-O যাক,চিটাগাং রোডে এসে নামলাম আর পাশের একটি পরিচিত চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আমার বন্ধুরা অপেক্ষমান আমাদের জন্যে।সেখানে শুরু হল আরকটি দরবার বন্ধুদের নিয়ে। সে আমাকে বিয়েই করবেনা। এর মুল কারনঃ মাঝের ব্রেক আপ সময়ে তার ফ্যামিলির সাথে আমার অনেক বড় ঝামেলা হয়েছে।আমারই ভুল হয়েছে। অনেক হাঙ্গামা গেছে এই ৭ মাসের প্রথম ৩ মাসে যা ও জানতোনা।এবং ও জানতে পারে অনেক পরে।আমার এই ভুলের প্রাঃশ্চিত্ব আমি আজো করছি।জানিনা কবে এর ক্ষমা আমি পাব। যাইহোক,সন্ধ্যা ৭ টায় এই দরবার শেষ হয় তাকে রাজি করিয়ে যে আমাকে বিয়ে করবে। এর মাঝে তার মামা আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিলেন,আমার ভাগ্নিকে সুস্থভাবে আমার বাসায় নিয়ে এসো।নাহলে তোর… ব্লা ব্লা ব্লা । আমি কি আর এইসবে কান দেই? ততক্ষনে উনি আমার নামে লালবাগ থানায় মামলা দিয়ে দিছেন।এটাও প্রিয়া নিজেই তুলে নেয় প্রায় ১ মাস পরে।এর মাঝেই পালিয়ে ছিলাম নিজের এলাকায়ই। আমিও ভয়ে ফোন অফ করে দিইলাম।সিম চেঞ্জ করলাম কয়ক দফা।কারন আমার সব নাম্বার তার গোস্টির কাছে আছে। চলে গেলাম অনেক দূরে এক বন্ধুর বাড়ীতে। সেখান থেকে কাল আসব শহরে বিয়ে করতেd
দ্বিতীয় কিস্তি…
ডেট লাইন ০৬.০৮.২০০৮ থেকে… কাল রাতে বাহিরে ছিলাম।কারন,এক বন্ধুর বাসায় রাত্রিযাপন হয়েছে। গতকালের ঘটনা তো অনেক মজায় মজায় পড়লেন। আজকে হয়তো তা আর থাকবেনা।কারন কালকের টা রোমাঞ্চকর গল্প হলেও আজকের তা হরর এর মত এবং এর চেয়েও ভয়ঙ্কর। কারন এইটা একটা লাইফ এবং এর যে কত রকমের অর্থ আছে তা যে যার অবস্থানেই ভালো উপলব্ধি করতে পারবেন। যাক,একটা আশ্চর্যের কথা হচ্ছে,কাল যখন ওকে আনতে গিয়েছিলাম ওর কলেজের ওখানে তখন আমার পকেটে টোটালি তিনশো টাকার মতই ছিল।সব খরছ করে যখন চিটাগাং রোডে আসি এবং চাইনিজ রেস্টুরেন্টে দরবারে বসি তখনও আমার পকেটে একশো বা এর বেশি কিছু টাকা ছিল।আজকে একদম ফুরুত হয়ে গেছি আমি। আবার আজকে নাকি বিয়া করুম!!!! এখান থেকে বিদায় নিয়ে আবার
চিটাগাং রোডের দিকে আসলাম।ওকে চিটাগাং রোডে এক বন্ধুর স্টুডিওতে বসিয়ে রেখে বাসায় আসলাম ড্রেস চেঞ্জ করতে। ড্রেস চেঞ্জ করলাম আর বাসায় মিথ্যে বলে বের হয়ে গেলাম।কাল রাতে কোথায় ছিলাম এবং আজকে কোথায় যাচ্ছি এইসব আর কি।আজকেও অফিসে জাচ্ছিনা কেন এইসবে কান দিলাম না।শুধু ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম পাগলের মত।কারন আমার জন্যে আরেকজন অধির অগ্রহে বসে আছেন।পকেত সম্পূর্ণ খালি।কাল তো বন্ধুদের থেকে নিয়েই চলছি।আজকেও অন্য বন্ধুদের খোঁজে বের হলাম এবং পেয়েও গেলামএকজন বন্ধু আমার অনেক হেল্প করেছে। জাকির এইসবে আবার পটু।ওকে দিয়ে হিসেব করলাম কাবিন/ টাবিন এর টাকা কত লাগতে পারে?হিসেব করে জোগাড় করেই ওর কাছে আসলাম।দুইজনেই বিয়ের জন্যে স্টুডিওতে ছবি তুললাম পাসপোর্ট সাইজের।তারপর বের হয়ে জাকির সহ চলে গেলাম নারায়নগঞ্জ কোর্টে একটা সিএনজি তে চেপে।যেতে যেতে ওর সাথে ফয়সালা করলাম কত কাবিন দিবো বা বিয়ের ব্যাপারে। ওরে বাপরে!!!!!!! কোর্টে যেয়ে দেখি কত ছাগল আমার মত দাঁড়িয়ে আছে এইসব ছাগলামি করতে।আমি দেখেই তো টাস্কি খাইলাম।জাকিরের পরিচিত উকিল ছিল।বাহিরে বসে বসে দুজনে গল্প করছিলাম।আর জাকির বিয়ের প্রস্তুতির কাজে বিজি। আমি কাল থেকেই সিম চেঞ্জ করে ফেলায় কেউ আমাকে পাচ্ছেনা।এটা আমার মাথায়ই নেই।আমি তো এখন নতুন স্বপ্ন নিয়েই আছি। সময় তখন বারটা ওভার হয়ে গেছে।এক মহুরি বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেল।অনেক আগের ক্লাসমেট ছিল সে। যে কিনা এই কাজ করেই বিয়ে করেছে। সে আমাদের দেখেই বুঝে গেছে। ওকে কোন রকম লাম ছাম বুঝিয়ে বিদায় দিলাম।দুপুর একটায় উকিল দেকে পাঠালো আমাকে। - দেখেন,কোন গেঞ্জাম আছে কিনা যে এই মেয়ে কে বিয়ে করতে আনছেন? - কি বলেন?গেঞ্জাম কেন থাকবে?আর আপনি এইসব কেন বলছেন? - আরে নাহ ভাই।মেয়ে ঠিক আছে তো,তাকে যে আপনি বিয়ে করতে আনছেন? - আবার জিগায়।আপনার কি মাথা ঠিক আছে নাকি?আপনার কি মনে হয় আমি পাগল? - বলেন কি?পাগল না হইলে কি এইখানে বিয়ে করতে কেউ আসে? এই কথা বলে উনি হেসে দিছে। আমি - না না সে রাজি আছে। - আবার দেইখেন,ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে যদি মেয়ে উল্টা- পাল্টা কিছু করে তাইলে আপনি,আমি,জাকির সহ সব চৌদ্দ শিখের ভেতরে ঢুকে যাবো কিন্তু। - হায় হায়।নাহ এমন কিছুই হবেনা।(মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ ডাকি যাতে প্রিয়া উল্টে না যায়।কালকে অনেক কষ্ট হইছে তাকে রাজি করাইতে ) - যাক তাহলে একটু পরে আমি ডাকছি আপনাদের। - আচ্ছা ঠিক আছে। অপেক্ষায় রইলাম জীবনের অন্য রকম একটি মঞ্চে উঠার। মনের ভিতর যে কি উল্লাস টা হয়তো কেউই বুঝবেন না।কিন্তু এর পেছনেই আছে প্রচণ্ড ভয়।এক্সময় ডাক পড়ল আমাদের। গেলাম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে।জাকির সমস্ত কাগজ পত্রের ব্যাবস্থা করে ফেলছে।আমরা শুধু গিয়ে বসলাম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে।বসেইতো আমার হাত-পা কাঁপা- কাপি শুরু হয়ে গেলো।সত্যি বলছি। ম্যাজিস্ট্রেটের প্রিয়াকেই জ্জিজ্ঞেস করলেন,আপনার পরিচয় পত্র বা আপনার আঠারো বছর হয়েছে কিনা। প্রিয়া তার ইডেন কলেজের আইডি কার্ড বের করে দেখায় এবং সাথে ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল এক্সাম এর প্রবেশ পত্র দেখায়।আমাকে বলে,আপনার?আমি বললাম,জি আমিও প্রাপ্ত বয়স্ক।আমার মাথা পুরাই টাল হয়ে গেছে এই পরিস্থিতিতে। কি থেকে কি বলব মাথায় কিছুই ঢুকছেনা।তারপর কি কি যেন লেখালেখি করল এফিডেভিট পেপার/কাবিন নামা/ স্ট্যাম্পে। দুজনের ছবি সহ এটাচ করল স্ট্যাম্পে।দুজনের সাইন নিবে এবার।আমার হাতে কলম ধরিয়ে দিয়েছে উকিল। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা,আমি আমার মায়ের জন্যে জীবনেও এত কাঁদিনি যতটা কেঁদেছি আজকে এই সাইন করতে যেয়ে কলম টা হাতে নিয়ে।আমার হাত কাঁপতে কাঁপতে সাইন ও হয়েছে বাঁকা। মা’কে অনেক মনে পড়ছে।এই ভেবে যে,জানিনা মা,তোমাকে খুসি করাতে পারবো কিনা তোমার এই পুত্রবধু দেখিয়ে।আর তোমার অনুমতি ছাড়াই করছে এই বিয়ে।একই সাথে কান্না করছি প্রিয়ার কথা চিন্তা করে। সে ও ভেতরে ভেতরে না জানি কেমন অশ্রুসিক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু বাহিরে তার কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে বলে,আপনি কাঁদছেন কেন?সসব সময় দেখে আসলাম মেয়েরা কাঁদে।আর আজকে দেখছি ছেলেরা কাদছে।প্রিয়াও আমাকে সান্ত্বনা দিতে পারছেনা।আমি তখন তার ভিতরের টা দেখেছি।সে কেমন কান্না করছে ভিতরে ভিতরে। বিয়ের এই কাজ শেষে উঠে গেলাম বাহিরে।তখনও কাঁদছি। জাকির ও আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে।প্রিয়া চুপচাপ কাঁদছে। জাকির কে একটু পরে বিদায় দিলাম।এবার কোথায় যাবো দুজনে জানিনা। আমার নতুন সিম থেকে প্রিয়ার বাসায় কল দিলাম যেন ও জানিয়ে দেয় যে সে বিয়ে করছে। ওর নানু কল ধরেছিলো।সে যে কি গালাগালি ওকে। ও বিয়ে করেছে এই কথা বলেই চুপ।ওপাশ থেকে কি কি বলছে আমি শুনেও না শুনার ভান করে আছি। কি আর বলবে?কপালে যা আছে তাই হবে। কথা শেষে দুজনে গাড়িতে উঠে রওনা দিলাম আমার অফিসের দিকে।কারন আমার পকেট খালি।ওখানে যেয়েই বন্ধু ইঞ্জিনিয়ার হাসান এর সাথে দেখা করি এবং কিছু মেনেজ করি।ওখানে কয়েকজন কলিগ এর সাথে দেখা করতে করতেই সন্ধ্যা হয়ে গেল। সেইদিন ছিলাম অফিসের পাশের একটি পরিচিত হোটেলে। পরের দিন অফিস করলাম ওকে হাসানের বাসায় রেখে। এর মধ্যে আমার বাসায় জানাজানি হয়ে যায় আমি এখন বিবাহিত।:-O তাও কিভাবে? প্রিয়ার বড় খালুর এক কলিগ আমার গ্রামের বাড়ির পাশের বাড়ির লোক।আই মিন আমার চাচাতো ভাই। সেই আমাদের পুরো গ্রাম জানিয়ে দিয়েছে যে আমি অমুকের মেয়ে কে বিয়ে করছি।গ্রামের বাড়ি(চট্টগ্রাম) থেকে খবর আসে আমার নিজ বাড়ীতে(ঢাকায়)। প্রিয়া মামা কিভাবে যেন আমার বাবার মোবাইল নাম্বার জোগাড় করেছেন।জানিয়ে দিলেন বাবার ছেলের কর্মকাণ্ড। বাবার মাথা পুরাই সিক্সটি নাইন।বাবার মতই ভয় পেতাম বড় ভাইকে।মাথা সিক্সটি নাইন বাবার মতই বড় ভাইয়ের টা।আমি কি আর এই দেশে থাকতে পারি এখন???? আবার শুনলাম,আমার গ্রামের বাড়ীতেই ছলে গেছে মামলার ওয়ারেন্ট। আজকেই চলে যেতে হবে অচিনপুর। ওকে নিয়ে বন্ধুদের খবর দিয়েই চলে গেলাম নারায়ানগঞ্জ এর শেষ সীমানায় এক বন্ধুর নানীর বাড়ীতে। বাবা কিভাবে যেন আমার নতুন নাম্বার পেলেন।আর কল দিয়েই গালির বয়ান করলেন।আমিও শুনেই যাচ্ছি।কিছুক্ষন পরে বললেন,পুলিশের ঝামেলায় আমি নাই।আমি তোকে ত্যাজ্য করে দিবো।আমি তো মনে মনে বলি,বাবা আপনি তো জানেন না যে,খালেদা আফা এই সিস্টেম টা ডিলিট করে দিছে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে।মনে মনে এই আশ্বাসে অনেক খুশিই ছিলাম আমি।আমার মত সেম কথাটা প্রিয়াকেও ওর নানী বলছিলো।আমিও সেম মন্তব্য করেছিলাম মনে মনে তখন। এর পর পালিয়ে বেড়ালাম ৪/৫ দিন বিভিন্ন জায়গায়। শুনছি এবং খবরও আসছে বাসা/এলাকা থেকে পুলিশ ও নাকি কয়েকবার এলাকায় এসেছে।বাসায় আসেনি। বন্ধুরা ট্যাকেল দিয়েছে।বাবার সামনে পুলিশ আসলে মনে হয় বাবার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যেতো।কারন এর আগে কখন আমাদের ফ্যামিলি এইসবে জড়ায়নি। এরমাঝে আম্মু ছোট ভাইকে দিয়ে আমাদের জন্যে বিভিন্ন জিনিস পাঠাতো যেখানে পালিয়ে ছিলাম।ছোট ভাইকে বন্ধুরা নিয়ে যেতো আমার সাথে দেখা করার জন্যে। তবে খুব সতর্ক অবস্থায়।বড় ভাই তো পুরাই হট আমার উপর।এর ১ দিন পরেই মাথায় জেদ চেপে বসে।কেন আমাকে মেনে নিবেনা বা আমি কেন পালিয়ে থাকবো? ছলে গেলাম নিজের এলাকায় এবং এক বন্ধুর বাড়ীতেই নিচ তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া(নাম কা ওয়াস্তে) নিলাম। দেখি কে কি বলে এখানে থাকলে।বাবা কেও নাকি অনেকেই কথা শুনায়।জেই শুনাবেন চাপা চাপার জায়গায় রাখমুনা এমন একটা জেদ কাজ করছে।কিন্তু এই বাসায় রাতে ঘুমানোর সময় পুলিশের ভয় ঠিকই থাকতো যদি রাতেই চলে আসে!!! মোবাইলে অনেক টাকা ঢুকিয়ে রেখে দিতাম যদি এমন হয় তবে সবাইকে কল করে ডাকতে হবে।অবশ্য পুলিশ আসলেও এলাকার বাহিরে নিতে পারবেনা এটা সত্য।কারন,তেমন শেল্টার ও ছিল রেডি। কাজের খাতিরে পুরনো সিম ওপেন করলাম। একদিন ফোন আসে লালাবাগ থানা থেকে।ওসি অনেক ভালো মানুষ তার কথায় বুঝলাম।বলল আপনাদের কাবিননামা,নিকাহনামা আমাকে পাঠান কুরিয়ারে।এর দুইদিন আগে ছোট ভাইকে দিয়ে লালবাগ থানা থেকে মামালার ডুপ্লিকেট কপি আনিয়েছি। তখনও কিন্তু আমরা ইসলামিক দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রি নই। কিন্তু আমাদের চলাফেরাও আল্লাহ দেখছেন যে আমরা কিভাবে ছিলাম।ইটস নত এ ম্যাটার। নিকাহনামা কই পাবো?আসলে আমার তখন টাকার খুবই অভাব ছিল দেখে এই কাজটা বাকি ছিল।সেইদিন কিছু মেনেজ করলাম এক বন্ধু থেকে।সরাসরি আবার সেই কোর্টের কাজি অফিসে যেয়ে কাজ টি সারলাম ১৪ই আগস্ট ২০০৮ এ। অর্থাৎ আমাদের বিয়ে বার্ষিকী এই ১৪ তারিখ। তারপর সেই কাগজ পত্র পাঠাইলাম থানায়।ওসি বলল দেখা করতেই হবে আমাকে।আমার তো কলিজায় পানি নাই। একটা কথা না বললেই নয়।আমি কিন্তু বিয়ে করেছি আমার বড়জন আই মিন আমার মেঝ ভাইয়ের আগেই।সবাই আমাকে একটা কথাই বলে আর কথা শুনায় যে,তুই তোর বড় ভাইয়ের আগেই বিয়ে করে ফেলছস? আমার সোজা উত্তর,আরে ব্যাটা,জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে আল্লাহর হাতে। জন্মের পরের দুইটা অংশের প্রথম টা আই মিন মৃত্যু টা যদি আমার মেঝ ভাইয়ের আগে হতে পারে তবে পরের অংশটা আমার মেঝ ভাইয়ের আগে হতে পারবেনা কেন? আশা করি আর কারো এই ব্যাপারে প্রস্ন থাকবেনা। বিয়েটাই আল্লাহর হাতে এটাকে মেনে নিতেই হবে। মেঝ ভাইয়ের সাথে এলাকায় দেখা হয় যখন তখন চিপায় চলে যাই।যদিও বড় ভাই তাই তার কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিই।ক্ষমা পেলাম এক স্টেপ। নেক্সট,আম্মু আসে সেই বাসায় হঠাৎ একদিন সন্ধার পরে। এসেই কান্নাকাটি করে।আমি আর প্রিয়া সালাম করেই মাফ চেয়ে নিলাম।আম্মু ওকে একটা রিং পরিয়ে দেয়।আর অনেক কাপড়-চোপড় ও আনে।সাথে একটা বোরকা। :-O এর সাথে গৃহস্থালি জিনিস তো আছেই।এইসব আবার বড় ভাই আর আব্বু জানেনা।জানলেই আম্মুর খবর আছে।:-O যাইহোক,রমজান চলে আসে।অনেক কষ্টে জীবন অতিবাহিত হচ্ছে নিজ পকেটের সামান্য টাকায়। দশ রমজানে বড় ভাই বাবার সাথে বাসায় আলাপ করলেন এই অবস্থায় থাকা যায়না।কিছু করতেই হবে। আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বড় ভাইয়ের একজন এডভোকেট ক্লাসমেট বন্ধুর ভিজিটিং কার্ড দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। আমি আর প্রিয়া গেলাম সেইদিন লালবাগ থানায় বাবা সহ। বাবাকে দেখেই ওসি অনেক সম্মান করলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে।আমি সেখান থেকে পালিয়ে ইফতারির পরে মসজিদে আল্লাহ আল্লাহ করছিলাম। ওসি বাবাকে বললেন,আপনার ছেলে দাকুন।আমি কিছুই করবোনা তাকে।আমি আসলাম ওসির সামনে।তারপর বললেন,শুধু মাত্র বাদী(আমার মামা শ্বশুর) এবং আপনার বাবার সম্মানে আমি আপনাকে এরেস্ট করছিনা।তবে আপনি বাদীর (আমার মামা শ্বশুর) সাথে ফোনে খুব খারাপ ব্যাবহার করেছেন,এটা ঠিক হয়নি।আমি জানি আপনার মন-মেজাজ তখন কেমন ছিল।কারন আমিও এই পথের পথিক। :-D (তখন আমি মনে মনে হাসছিলাম অনেক) আমি আপনাদেরকে ছেড়ে দিচ্ছি এখন।কাল সকালে কোর্টে আসবেন আপনি (প্রিয়াকে বললেন)।এসেই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিস্তারিত বললেই মামলা খালাস হয়ে যাবে।পরের দিন আমরাও রিস্ক না নিয়েও ভাইয়ার সেই এডভোকেট বন্ধুর দ্বারা মামলা খালাসের বেবস্থা করে ফেললাম। সকাল দশটায় ভিকটিমকে (প্রিয়াকে) মহিলা ম্যাজিস্ট্রেট (খুব ইয়াং ছিল ) ভেতরে নিয়ে পার্সোনালি জিজ্ঞেস করে এবং পরেও সে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এখই কথা বললে মামলা খালাস হয়ে যায়।আমি তখন কোর্টের বাহিরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রিয়া যে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলছে তার কথা সেটা ভিডিও করেছিলাম।:-P পরে সেই ক্লিপ টা মোবাইলের মেমোরি কার্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে যায়। সেইদিনই দুপুরের পরে বাবা নিজেই আমাদের বাসায় নিয়ে যায় একসাথে ইফতারি করার জন্যে।এবং সেইদিনই আমাদের বাসায় মেনে নেয়।বাসায় গেলে বড় ভাবী আমাদের রিসিভ করেন।তখনও বড় ভাই আসেনি অফিস থেকে। ভাইয়া যখন আসে তখন ভাবিকে শিখিয়ে দিলাম রুমে একলা থাকলে যেন আমাকে ডাক দেয় ইশারায়।আমিও সময় মত চলে যেয়ে পায়ে ধরে মাফ চেয়ে নিই। ব্যাস সব ঝামেলা শেষ আমার। !!!!!!!!!!!!!!!!!!!ওয়াও!!!!!!!!!!!!!!!!!! এভাবেই একসময় কিছু দিন পরেই নতুন চাকরি পেয়ে যাই। চলতে থাকে নিজের সংসার। সময় চলে গেছে চার বছর। এখনো আল্লাহর রহমতে প্রিয়া আর আমি আছি একই ছাঁদের নিচে একই আত্মায়।মাগার শরীর দুইটা। আর ওর ফ্যামিলির কথা এখানে উল্লেখ করিনি।এতোটুকুই বলে দেই যে,আমার জীবনে আমি ওর ফ্যামিলির গুটি কয়েকজনকে দেখেছি এবং কথা বলেছি।তাও সামান্য কিছু সময়ের জন্যে।আমার শ্বশুর-শাশুড়ি,মামা-মামি,খালা- খালু,মেঝ মামা-মামি এদেরকেই শুধু।আর এখনো আমার কপালে জোটেনি শ্বশুরবাড়ির আদর। দোষ আমারই ১০০%।এতে কোন ভুল নাই।এই ইতিহাস বললে ভাই আমি মারা যামু লিখতে লিখতে।তাই মারা যাইতে চাইনা।তাই লিখলাম ও না।সেখানেও অনেক সাহসের ব্যাপার আছে।আসলে সাহস তো না। আমি যে বেয়াদব তার প্রমান আছে।বিয়ের আগে আমার মেজাজ আর কাজ কর্ম ছিল এখনের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বিপদজনক।সবকিছু এই নারীই(আমার অর্ধাঙ্গিনী) চেঞ্জ করে দিয়েছে।যা আমি আর ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা সবাইকে ধন্যবাদ আমার বক বক কষ্ট করে পড়ার জন্যে। সবাই ভালো থাকবেন।{


http://www.facebook.com/nipun202?ref=hl

==ভালবাসা এবং প্রতিজ্ঞা==

==ভালবাসা এবং প্রতিজ্ঞা==
শুনেছি প্রেমে পড়লে মানুষ গরু, ছাগল, গাধা, ভেড়া আরো কত্ত কি হয়! তবে আমি কিন্তু এগুলোর একটিও হইনি। কারণ, আমি তো এখনো প্রেমেই পড়িনি! তো প্রেমে না পরার পেছনে বড়-সড় তেমন কোনো কারণ না থাকলেও ছোটখাটো ১টা কারণ অবশ্যই আছে। আর তা হলো আমি এবং আমার এক বন্ধু দুজনে মিলে একটা যৌথ প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে, জীবনে যত কিছুই করি না কেন আমরা কখনো প্রেম করব না। বন্ধুটি অবশ
্য একজনের কাছ থেকে বিশাল টাইপের এক ছ্যাঁকা খেয়ে এরূপ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আর আমি…? তেমন কিছুই না। আসলে বন্ধুর মুখ থেকে ভালোবাসার বিরুদ্ধে ভারী ভারী সব ডায়লগ শুনতে শুনতে এত্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলাম! অবশ্য আমি কিন্তু আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারিনি। কারণ, আমি আবার দুই কথার লোক! অর্থ্যাৎ, সকালে এক কথা বললে বিকেলে আরেক কথা বলে ছাড়ি! বিশেষ করে আমি যা বলি তা না করতেই বেশি আনন্দ পাই! তো প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের প্রধান কারণই ছিল প্রেম। একদিন কোত্থেকে যেন প্রেম নামক এই বস্তুটা উড়ে এসে ধপাস করে আমার মনে বাসা বাঁধল। হঠাৎ করেই আমার ক্লাশে পড়ুয়া এক মেয়েকে আমার ভালো লাগতে শুরু করল। আর এই ভালো লাগাই যে ভালোবাসা তা আজকাল ফিডার খাওয়া শিশুরাও জানে। তো যাই হোক, মাত্র কয়েক দিনের পরিচয়েই আমি মেয়েটার প্রেমে একেবারে দিওয়ানা হয়ে গেলাম। আমি রীতিমত তার প্রেমের স্যুইমংপুলে ডুবে ডুবে জল খাওয়া আরম্ভ করে দিলাম! এখন দিন-রাত ২৪ ঘন্টা আমার মনটা সিলিংফ্যানের মত তার পেছনে ঘুরঘুর করতে লাগল। আমার ধারনা মেয়েটাও আমার প্রেমের সাগরে গড়াগড়ি দিতে শুরু করেছে। কারণ, তার আচার-আচরণ আর ভাষা-ব্যাকরণে আমি এমনটাই যে আভাস পাচ্ছিলাম! এমন পরিস্থিতিতে আমার জয়গায় এখানে অন্য কেউ হলে হয়তো তার ভালোবাসার মানুষের জন্য এতদিনে নতুন কোনো গান আবিষ্কার করে ফেলতেন। আমিও গান গাইতে চেয়েছিলাম কিন্তু গলার যে বেহাল দশা তাতে করে এত্ত বড় রিস্ক নেওয়ার সাহস পাইনি! যাই হোক, এতটা দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আমি তাকে আমার মনের কথাটা খুলে বলতে পারিনি। আর যেহেতু মেয়েরা ‘বুক ফাটে তবুও মুখ ফোটে না’ নীতিতে বিশ্বাসী তাই ওর কাছ থেকে আগে অফার পাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তো এভাবে আর কত? ভাবলাম মুখে না হোক অন্তত চিঠি লিখে হলেও তাকে আমার মনের কথাটা জানানো উচিত। যেই ভাবা সেই কাজ। তবে চিঠিটা লিখতে একটু লেট হয়ে গিয়েছিল। কারণ, আমি চিঠি লেখার আগেই একদিন রাতে সে আমাকে ফোন করল। (এ যেন মেঘ না চাইতেই শিলা, বৃষ্টি, বজ্রপাত আরো কত্ত কি!) সে বলল, ‘সুমন তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে’। আমি বললাম, ‘কি কথা বলো’? সে বলল, ‘মোবাইলে বলতে পারব না। সামনা- সামনি বলতে হবে। তুমি কাল সকালে আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবে’? জবাবে আমি কি আর না বলতে পারি! বললাম পারব। তারপর স্পটের নাম বলেই সে ফোন রেখে দিলো। সেদিন তার কথা ভাবতে ভাবতেই আমি সারাটা রাত পার করে দিলাম। দুই. সকাল সাতটা বাজে। আমি জীবনেও এত সকালে ঘুম থেকে উঠি নাই! তবে আজ উঠেছি শুধুমাত্র তার সাথে দেখা করার জন্য। ঘুম থেকে উঠেই ফ্রেশ হয়ে সেজে- গুজে তার সাথে দেখা করার জন্য রওনা দিলাম। পথে এক ফুলওয়ালার কাছ থেকে অনেক রিকোয়েস্ট করে ৫ টাকার ১টা আধমরা গোলাপ ৩ টাকায় কিনতে সক্ষম হলাম। (আফ্টার অল প্রেম-ভালোবাসার বিষয় ফুল ছাড়া খুব একটা জমে না কিনা!) এরপর ফুলটা প্যান্টের পকেটে রেখে তার সমনে উপস্থিত হলাম। ভাবলাম সে যখনই ‘আই লাভ ইউ’ বলবে তখনই ফুলটা বের করে তাকে দিব। আর এই উদ্দেশ্যে আগেই নিজের ডান হাতটা পকেট বরাবর রেডি করে রাখলাম। কিন্তু আফসোস্! সে আমাকে ভালোবাসার কথা বলার জন্য এখানে ডাকেনি। ডেকেছে আমার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার চাওয়ার জন্য! মোবাইলে টাকা ধার চাইলে হয়ত আমি নানান বাহানা তৈরি করে ফেলতাম, এটা ভেবেই মনে হয় সে মোবাইলে টাকা ধার না চেয়ে এভাবে সরাসরি আমাকে এমন বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র করেছে। উপায় না দেখে অবশেষে প্রেস্টিজ পাংচারের ভয়ে পকেট থেকে ৫০০ টাকার ১টা কড়কড়ে নোট বের করে ওর হাতে দিলাম। টাকা হাতে নিয়ে সে বলল, ‘তুমি রাগ করনি তো’? তখন বুক ভরা হাহাকার থাকা সত্ত্বেও ঠোঁট দুটি কিঞ্চিত বাঁকা করে মুখে হাসির ভাব ফুটিয়ে বললাম, ‘আরে না রাগ করব কেন’? ‘আরো লাগলে তুমি আমাকে বলো’ এটাও বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু যদি সত্যি চেয়ে বসে এই ভয়ে কথাটা আর মুখ থেকে বের করিনি! সেই দিনটি ছিল ১৩ই ফেব্রুয়ারি। ভাবলাম পরেরদিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এদিন মানুষ তার ভালোবাসার মানুষের জন্য কত কিছুই তো করে। আর আমি না হয় আজ আমার ভালেবাসার মানুষের জন্য এই ৫০০ টাকাই বিসর্জন দিলাম। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ইতিমধ্যেই সে আমার কাছ থেকে বিদায় নিলো। সাথে নিয়ে গেল আমার দেওয়া ৫০০ টাকা কড়কড়ে নোটটি! অন্যদিকে আমার পকেটে রয়ে গেল আধমরা সেই লাল গোলাপটি। সে যতক্ষনে গেল, ততক্ষনে আমার এই আধমরা গোলাপটি পুরোই মৃত ঘোষিত হলো! ইন্নালিল্লাহে… রাজেউন!! তিন. আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। হঠাৎ করেই প্রিয়ার (ভালোবাসার মানুষ) সাথে আমার দেখা হয়ে গেল। দেখা হতেই সে নিজ থেকে গতকালের টাকা ধার দেওয়ার জন্য আমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাল আর বলল, কেন টাকা ধার নিয়েছিলাম তা জনতে চাইলে না? যদিও আগ্রহ নেই তবুও বললাম, কেন নিয়েছ? বলল, আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে আমি আমার ভালোবাসার মানুষকে একটা ফতুয়া গিফট করার জন্যই টাকাটা ধার নিয়েছিলাম! কথাটা শোনা মাত্রই যেন মনে মনে খুশিতে লাফ দিয়ে আমি মাটি থেকে প্রায় ২ ফুট উপরে উঠে গেলাম! (আমি আবার লাফা-লাফিতে প্রচন্ড রকমের দুর্বল। যদি সবল হতাম তাহলে এতদিনে অলিম্পিক গেমসে নাম লিখিয়ে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটা সোনার মেডেল আনার ব্যবস্থা করে ফেলতাম না!) যেহেতু আমার ধরণা ছিল যে, প্রিয়ার ভালোবাসার মানুষ একমাত্র আমিই। তাই এতটা খুশি হয়েছিলম আর কি! অতঃপর বললাম, তা ফতুয়া কি কেনা হয়েছে? সে বলল, অবশ্যই এবং সেটি তাকে দিয়েই তো বাসায় ফিরছি। এবার আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম, তাকে… মানে কাকে? জবাবে সে বলল, তোমার বন্ধু আরিফ! এই কথা শুনে আমি অবাক হবো না কি হবো এটা বুঝে ওঠার আগেই প্রিয়া বলল, আরিফ আজ বিকেলে আমাকে চাইনিজ খাওয়াবে। তুমি কি আমাদের সাথে যেতে পারবে? মুখে বললাম, না কাজ আছে। আর মনে মনে বললাম, শালা ভাবলাম কি আর হইলো কি? ব্যাটা নিজেই নিজের প্রতিজ্ঞা ভেঙে বসে আছে! এখন তোদের সাথে চাইনিজে গিয়ে আমার কোনো লাভ নেই। শেষে যদি দুজনে আবেগের বসে আমাকেই খাওয়ার বিল দিতে অনুরোধ করে তবে আমি চোখে সর্ষে, সূর্যমুখী ছাড়াও আরো কত্ত যে বাহারি রকমের ফুল দেখব তার কোনো ইয়াত্তা নেই! ভালোবাসা পাইনি তো কি হয়েছে ভবিষ্যতে পাবো; কিন্তু টাকা খরচ হলে তা আর পাওয়া যাবে না! সেদিন এত্ত বড় একটা শক্ খাওয়ার পরও আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েনি। তবে নিজের মাথায় অন্যের কাঁঠাল ভেঙে খাওয়ার হালকা আভাস যে পাইনি তা কিন্তু নয়। সাথে পেয়েছিলাম হৃদয় পোঁড়ানোর কিঞ্চিত দুর্গন্ধ! এ ঘটনার পর আমি মনে মনে শুধু এতটুকুই চেয়েছি, প্রিয়া যেন আমার পাওনা টাকা সময়মত শোধ করে দেয়। নয়তো আমি আম আর ছালা তো বটেই সাথে বড়া আর খোসাও হারাবো! অতঃপর আমি আবার আমার সেই চিরচেনা প্রতিজ্ঞা করলাম যে, জীবনে যত কিছুই করি না কেন আর কখনো প্রেমের পথে পা বাড়াবো না। তবে এবারো আমি আমার এই প্রতিজ্ঞায় পুরোপুরি অটল থাকতে পারব কিনা এ ব্যপারে কোন গ্যারেন্টি নেই। কারণ, চোখ যেহেতু আছে সেহেতু আবারো যেকোনো সময় যে কাউকে ভালো লাগতেই পারে! পাঠক, আপনারা কি বলেন?

=এত পিচ্ছির প্রেম=

॥তুদে দেখা তোয়ে দানা তানাম॥ প্রেম কি শুধু কিশোর , যুবক আর তরুণদের জন্য ? আজ আপনাদের এক পিচ্চির প্রেমকাহিনী শোনাবো । সত্যি ঘটনা । । শুভ্র , ক্লাস টু এর ছাত্র । দুষ্টুমির রাজা , মনে মনে নায়ক । যৌথ পরিবারের একম
াত্র শিশু সদস্য হওয়ায় অল্প বয়সেই পেকে গেছে । শাহরুখ , হৃতিক এর সকল ডায়ালগ তার মুখস্থ । ইঁচড়ে পাকার সাইড এফেক্ট হিসাবে তার মাথায় ঢুকল বন্ধুদের সামনে হিরো হতে হলে তাকে প্রেম করতে হবে , গার্লফ্রেন্ড বানাতে হবে । কি করা যায় …... টার্গেট করা হল ক্লাসের সবচেয়ে সুইট মেয়ে টুনিকে । এবার মিশনে নামার পালা । ভেবে চিন্তে নামতে হবে , নইলে টিচারের হাতে ধরা খাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা । টিফিনের সময় পাশে কেউ থাকে না , এটাই বেস্ট সময় । প্রথমে প্ল্যান ছিল তার কয়েকজন বন্ধু টুনিকে এটাক করবে , সে যেয়ে হিরোর মতো এন্ট্রি মারবে । কিন্তু কেউ টিচারের মারের ভয়ে রাজি হলনা । কি আর করা , একশন হিরো না হয়ে বাধ্য হয়ে রোম্যান্টিক হিরোর পার্ট নিতে হল । ফিল্মের অনেকগুলি ডায়ালগ থেকে খুব পছন্দের একটি ডায়ালগ সিলেক্ট করা হল , ফুল থেকে চকোলেট দিলে খুশি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি । তাই জমানো টাকা থেকে একটা কিটকেট কেনা হল । শেষ মুহূর্তে কি মনে করে জানি চকোলেটের সাথে একটা ফুল যোগার করে শুভ্র গেল প্রপোজ করতে । সবাই তখন টিফিন খাচ্ছিল বা খেলাধুলায় মগ্ন । বিভিন্ন পজিশনে তার বন্ধুরা পাহারায় আছে , কোন টিচার দেখলেই সংকেত দিবে । অনেক সাহস নিয়ে মামার কৌটো থেকে চুরি করা জেল মাখা চুল আর বোতাম খোলা ইউনিফর্ম নিয়ে শুভ্র গেল টুনির সামনে । টুনি তখন তার বান্ধবীর সাথে টিফিন খাচ্ছিল । বাম হাতে চকোলেট , ডান হাতে ফুল , টুনির সামনে ফিল্মি স্টাইলে হাঁটু গেড়ে বসলো শুভ্র , ফুলটা বাড়িয়ে ধরে মিষ্টি গলায় গান ধরলো............ -তুদে দেকা তো ইয়ে দানা তানাম -পেয়াল হোতা হে দিবানা তানাম -আব ইহা তে কাহা দাউ হাম -তেলে বাঊ মে মাল জাউ হাম ......। চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে টুনি বলল- -এই তুবরও , কি বল ? বুজি না তো । টাস্কি খেয়ে গেল শুভ্র । টুনি যে হিন্দি নাও বুঝতে পারে সেটা তো আর চিন্তা করে দেখেনি সে । এখন উপায় ? বন্ধুদের সামনে তার
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>