মঙ্গলবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১২

। আমি তোমাকে ভালো..... ।।

সময় রাত ১১ টা। পড়ার টেবিলে বসে প্রপজ করার হাজারটা উপায় নিয়ে ভাবছি। দেড় বছর ধরে একজনকে প্রপজ করার জন্য ঘুরঘুর করছি কিন্তু বিধাতা প্রতিবারই আমায় দেখে মুচকি হাসেন।

মিতাকে ১২ দিন আগে বলে রাখলাম যে ক্লাসের পর একসাথে কেএফসি তে লাঞ্চ করব। মনের কথা তখনই বলব। লাঞ্চ করা শেষ। মনে মনে ঠিক করছি কিভাবে বলব। তখনই বাড়ি থেকে বাবা ফোন দিলেন। জানালেন মা-র খুব জ্বর। তাড়াতাড়ি বাড়ি যেত
ে। মুহূর্তের মধ্যে সব ভুলে গেলাম। মিতাকে রিকশায় তুলে দিয়ে সরাসরি চলে গেলাম বাস স্ট্যান্ডে, রওনা দিলাম বাড়ির দিকে...


বাড়ি থেকে ফিরতে ফিরতে ৪-৫ দিন লেগে গেল। ঢাকায় এসে সব অগোছালো দেখলাম। কয়েকদিন ক্লাস মিস দেয়ায় অ্যাপ্লিকেশান সাইন করানোর জন্য টিচারদের পেছনে কয়েকদিন ঘুরলাম। এক সপ্তাহ পর সব আবার আগের মত হয়ে গেল। ঠিক করলাম এবার মিতাকে মনের কথা বলে দিব। ক্লাস শেষে মিতাকে বললাম রিকশা করে ঘুরতে যাব...! মিতা তো এক পায়ে খাড়া। রিকশায় বসে বসে চিন্তা করছি কিভাবে মিতাকে কথাটা বলব... মনে মনে ঠিক করে ফেললাম কি বলব। যখনই বলতে নিলাম তখনই রিকশা হঠাৎ করে ব্রেক চাপল। জীবনের প্রথমবারের মত রিকশা থেকে পড়ে গেলাম।

মিতা তো আমাকে দেখে হাসতে হাসতে শেষ। রিকশাওয়ালার উপর ভীষণ মেজাজ খারাপ হল কিন্তু তারই বা কি করার!! রিকশায় উঠে চুপ-চাপ বসে রইলাম... মিতা হাসছে তো হাসছেই। এমন অবস্থায় মুখে ‘ভালবাসি’ কথাটা আসল না।
একের পর এক আমার সব প্ল্যান এভাবে পানিতে পড়ছে...! এক সময় আমার কাছে যেন ওকে মনের কথাটা বলাই মুখ্য হয়ে গেল...! হ্যাঁ , না... যা—ই বলুক, আমাকে তো প্রপজ করতে হবে!! মাথায় সারাদিন একটা চিন্তাই ঘুরত কিভাবে মনের কথাগুলো বলব।

৩য় বার প্রপজ করেছিলাম স্বপ্নের মাঝে। আল্লাহর অশেষ রহমত ওটা স্বপ্নই। “আমি তোমাকে ভালো...” এ টুকু বলার পরেই গালে ঠাশ করে শব্দ হল। ঘুম থেকে উঠলাম... উঠে দেখি মিতাই ফোন করেছে...

মিতাকে পছন্দ করি দেড় বছর ধরে। আমার ফ্রেন্ডরা ওদের গার্লফ্রেন্ডদের প্রপজ করেছে পরিচয়ের এক মাসের মাথায়!! আর আমি গাধার মত বসেই আছি। দুজন ফ্রেন্ড আবার এর মধ্যে ব্রেকাপও করে ফেলেছে। দুনিয়া সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি যাচ্ছি উলটা দিকে।

ঠিক করলাম মিতার পিছে ঘুরবই না। ভালবাসলেই যে বলতে হবে এমন কোন কথা আছে? আমি আমার মত ভালবাসতে থাকি। ওকে না পেলেই বা কি...ভালো তো বেসেছি।
কিন্ত এ কথাগুলো বলা যত সহজ মেনে নেয়া এত সহজ নয়। তাও আমি প্রপজ করার চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে দিলাম। কতদিন মনের আনন্দে পড়তে বসি না... মাথায় খালি মিতা আর মিতা। আজ থেকে সব বাদ।
ঘরের লাইট বন্ধ করে ঘুমাতে গেলাম। কাল থেকে আমি দেড় বছর আগের ‘নাফিস’ হয়ে যাব।

সকালে এক বন্ধুর ফোনে ঘুম ভাঙল। ফোন ধরার পরই বলল, “দোস্ত তুই কই?? তাড়াতাড়ি আয়... মিতার বাসায় নাকি বিয়ে ঠিক করেছে... সবাই মিলে আজ ঘুরতে যাব। বিয়ের পর তো আর ঘুরতে যাওয়া হবে না!”

মাথা গরম হয়ে গেল। আজই মিতাকে সব বলে দিব। ওকে মোট ১৩ বার প্রপজ করতে গিয়েছিলাম সেটা বলব। কবে থেকে ভালবাসি তাও বলব। রেডি হয়ে রওনা দিলাম। যাওয়ার আগে ঠিক করে ছিলাম সরাসরি বলব I love you……কিন্তু মুখ দিয়ে বের হয়ে গেল ‘আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই’! সবার সামনেই বলে ফেললাম...! সবাই আমার কথা শুনে হেসে উঠল...আমার মেজাজ আরও গরম হয়ে গেল... তারপর একজন বলল, ‘এই কথাটা বলতে এতদিন লাগল’ ? আমি তো অবাক... ওরা জানে কিভাবে যে মিতা কে পছন্দ করি...!

~~~~ আসলে মিতার বিয়ে ঠিক হয়নি... আমাকে দিয়ে প্রপজ করানোর জন্যই ওদের এই নাটক...! কে জানে নাটকটা না করলে হয়ত কোনদিনই বলতে পারতাম না...! ~~~~

সোমবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১২

অনলাইনে আয়ের কিছু চরম বিতর্কিত পদ্ধতি যে পথে কখনো ভুলেও পা বাড়াবেন না

গত কিছুদিন ধরে দেখছি বিভিন্ন ব্লগে অনলাইনে আয়ের নামে চরম ভুল কিছু পদ্ধতি নিয়ে আবোল-তাবোল লিখছেন অনেক নবাগত পথভ্রান্ত ব্লগার কিংবা আজকাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও দেখছি এই স্ক্যাম পদ্ধতি শিক্ষা দেয়। এই কাজগুলো আসলে যারা করছে তারা নিজেরাই কিছুদিন যাবার পর বুঝতে পারে যে তারা ভুল পথে আগাচ্ছে। কিন্তু ভুল তো ভুল এখন দেখছি অনেকে প্রায় বাজে কিছু কাজেও জড়িয়ে পড়ছে না বুঝে তাই ভাবলাম তারই দু-একটি নিয়ে আজ একটু লিখি। যাতে আর কেউ অন্তত এই ভুলগুলো না করে।

বেটিং

বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিভিন্ন খেলা। আর এসব খেলা নিয়ে অনলাইনে অনেক সাইটেই হয় বেটিং প্রতিযোগীতা। যেখানে থাকে অনেক লোভনীয় অফার। এমনই একটি সাইট bet365.com। এই সাইটটি রয়েছে এমন বাজি প্রতিযোগীতার জন্য শীর্ষে। এখানকার লোভনীয় সব অফার দেখে কিংবা প্রথম ছোট দু একটি দান জিতে অনেকে বড়সর ভাবে নামার প্রস্তুতি নেন কিন্তু এটা নিশ্চিত ভাবে জেনে রাখবেন আপনি যখন জেতেন তখন অন্য কেউ হারে তাই আজ বা কাল আপনাকেও হারতে হবে।

ক্যাসিনো

ক্যাসিনো খেলাটির সাথে অনেকই পরিচিত। তবে অনলাইনে এই খেলার পেছনে অর্থ লগ্নি করে বিভিন্ন প্রতিযোগীতা হয়। এটাও বেটিং এর একটি অংশ এবং এখানেও একই কথা প্রযোজ্য।

হাইপ

হাইপ শব্দটির সাথে আপনারা অনেকেই পরিচিত হয়ে থাকবেন। কারন এটা নিয়ে বিভিন্ন ব্লগে মাঝে মাঝেই বেশ প্রচারনা দেখা যায়। আবার অনেক সাইটও দেখি হাইপের। ব্লগ পোস্টে বা হাইপ সাইটে গেলে দেখা যায় তারা প্রতিদিন নাকি লগ্নিকৃত অর্থের ২৫% থেকে শুরু করে ৫০০% পর্যন্ত লভ্যাংশ দেয়!! কিন্তু খুব স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তা করুন। কোন বৈধ উপায়ে কি এত আয় সম্ভব? কখনোই না কিন্তু তারপরও অনেকে পেমেন্ট প্রুফ পযন্ত দেখাচ্ছে। তবে কোথা হতে আসছে এই অর্থ? হূমম এসব হাইপ সাইটের এডমিনরা তাদের সংগৃহীত অর্থ বেটিং সাইট বা ক্যাসিনোতে লগ্নি করেন। তাই আপনার দেয়া টাকায় যদি তারা বাজি জেতেন তবে আপনিও হয়ত পাবেন লভ্যাংশ দেখাতে পারেন তার পেমেন্ট প্রুফও। কিন্তু যেহেতু আপনার দেয়া টাকা তারা বেটিং বা ক্যাসিনোর মত ঝুকিপূর্ণ জায়গায় বিনিয়োগ করেন। তাই প্রথমদিন হয়ত তারা জিতবে, দ্বীতিয়দিনও জিতল কিন্তু তৃতীয় তো তাকে হারতেই হবে। আর তখন আপনার টাকাও যাবে আর সেই সাইটের কোন হদিসও থাকবে না। কপাল খারাপ হলে এমনটি আপনার প্রথম বিনিয়োগেই হতে পারে। :(   আর এজন্য যে কোন হাইপ সাইটই কদিনের মাথায় স্ক্যাম হয়ে যায়।
আপনারা হয়ত বিভিন্ন হাইপ রিভিউ সাইটের রিভিউ দেখে কোন সাইটকে ভাল মনে করতে পারেন তবে শুনে রাখুন রিভিউ সাইটের ঐ রিভিউগুলোর বেশীর ভাগই স্পন্সর করা। মজার ব্যাপার হলো এমন একটি স্পন্সর রিভিউ বাংলায় লেখার অফার আমার কাছেও এসেছিল। আমি তাদেরকে ফিরিয়ে দিলেও কৌশলে জেনে নেই তাদের ভেতরের অনেক কথা। :P

ক্লাব এস্টেরিয়া

ক্লাব এস্টেরিয়া নামক একটি শব্দ আজকাল খুব শুনছি। যা থেকে নাকি অনলাইনে আয়ের প্রচুর সুযোগ আছে বলে শুনি। তবে আমি আর এই স্ক্যাম পদ্ধতিটি সম্পর্কে বেশি কিছু বলতে চাচ্ছি না আপনারাই একটু যাচাই করে দেখুন তো এটা কি অনেকটা হাইপের মতই না?




Earning System



****Freelance work is becoming a massive outlet of success for many people. The reasons are obvious. One is the notorious and expansive growth of the Internet, making instantaneous networking across the globe all the more viable by the day. Another key aspect is the nearly unlimited mass of “categories” and areas of freelance, and as the web expands, the demand for creative work follows. Gigbucks is a quickly growing micro-job site, gaining some true longevity through excellent marketing and a top-tier service. oDesk is similar, but has been around longer, finding an established audience of credible workers. They are, in essence, freelance job websites where people buy and sell services relating to the web and other accompanying areas. Both are worth exploring for the creative and freelance oriented minds.



Earn money via online from websites

Technology is the business extension of science and the greatest technology ever invented is Internet. Some people says the Internet has made more millionaires than any other means in history. Millions of people have found success with internet and millions of people still seeking gold coins on the internet.
Anyway we are not gonna teach you how to be a millionaire or billionaire.  We are just trying to let you know that how you can make some money extra
  • Earn with your own website - You can earn a decent amount of money if you dedicate some advertising space on your website or blog. You will get paid when someone clicks on a ad placed on your website or blog.
  • Earn for visiting sites - You can Earn a few cents per website you visit, through a specific paid to click network.
  • Earn by Writing article - There is thousands of websites want to pay you for your article or writings.
  • Get paid to signup - You can earn some money by joining a website as a member.
  • Earn from online Games - Play online games and win, you will get a reward by the authority of that site.
  • Earn from your photos - If you have some photos captured by you, then you can sell them online. Some sites pays you if you upload those on that site.
  • Earn from your videos - There is also opportunity of earning by uploading your videos.
  • Work from home jobs - Actually i am talking about freelance and outsourcing jobs with what you can earn your livelihood.
Most of the cases You need to have a Paypal, E-gold or Moneybookers account to receive payments.
  • Paypal - Paypal is a third party payment processor. It can pay or receive funds one behalf of you, all you need is to open a account with Paypal. But be careful if you are from Bangladesh then Paypal is not for you because Paypal does not support Bangladesh. So don't try to do anything fraud with paypal, you will loose all of your money. Mostly try to avoid Paypal fund receiving option where another payment option is available. If you do not have another option then just contact someone who have a verified paypal account. ask him/her to receive fund on his account for you. Or you can contact some hosting firms to receive fund for you. Learn more on www.paypal.com
  • E-gold - E-gold is like paypal and it supports any country. just signup and start receiving funds. more on www.e-gold.com

  • Moneybookers - It is also like paypal and supports all country.

ভেরীফাইড পেপ্যাল একাউন্ট

বাংলাদেশে অনলাইনে যারা কাজ করেন তারা আসলেই জানেন একটি ভেরীফাই পেপ্যাল কতটা জরুরী। আমি আজ সহজে কিভাবে একটি ভেরীফাইড পেপ্যাল আইডি পেতে পারেন সে ধরেনের একটি ট্রিকস সম্পর্কেই  আমার এই পোস্টে বলব। তো আসুন শুরু করা যাক। (বোঝা না গেলে বড় করে দেখতে ছবির উপরে ক্লিক করুন।)
(1)

(2)

(3)

                                                                         (4)
(5)


(6)


(7)

(8)

(9)


(10)


(11)


(12)

(13)

(14)

(15)

(16)

(17_

(18)







বৃহস্পতিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১২

“এক সন্ধ্যায়” Part 03


তূর্ণ আর রিনঝিন এর এসব সপ্নের ঘোরেই একমাস চলে যায়, রিনঝিন খুবভালো মতো বুঝেছে যে তূর্ণকে ছাড়া সে থাকতে পারবে না। মা না হয়েও ওর শুধু মনে হয় তূর্ণকে যেন ওই জন্ম দিয়েছে। আর তূর্ণও সারারাত ঘুমাতে পারেনা, ওর খুব ইচ্ছ
ে করে রিনঝিনকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাতে। মায়ের কোন স্মৃতিই ওর কাছে না থাকায় চোখ বন্ধ করলেই ও দেখতে পায় রিনঝিন ওকে দুহাত বাড়িয়ে ডাকছে।
কদিন ধরেই তূর্ণ বাবার কাছে জেদ করছে রিনঝিন মিস কে ওদের বাসায় নিয়ে আসতে। লুব্ধর অনেক বোঝানোরপরেও যখন ও কিছুতেই বুঝতে চায়নি লুব্ধ ওকে অনেক বকেছে। সেই থেকে তূর্ণ আবারও চুপ হয়ে গেছে। এর মাঝে একদিন ও সপ্নে দেখলো রিনঝিন বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে চলে যাচ্ছে, তূর্ণ বারবার মা মা বলে ডাকছে কিন্তু রিনঝিন ফিরে আসছে না, চলেই যাচ্ছে। এই সপ্ন দেখার পরই তূর্ণর ভীষণ জ্বর এলো।
লুব্ধ ওকে সকালে ডাকতে এসে ভাবলো এখনও ঘুমাচ্ছে ঘুমাক, স্কুল বন্ধ বলে আর না ডেকে অফিস এ চলে গেলো লুব্ধ। রিনঝিন দুপুরের একটু আগেইএ বাসায় চলে এলো রান্না করে তূর্ণকে খাওয়াবে বলে। কিন্তু স্তব্ধ রিনঝিন তূর্ণর জ্বরে পুরেযাওয়া শরীরটা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বসে রইলো। ও কতক্ষন ওভাবে বসেছিল তাও বলতে পারেনা, শুধু তূর্ণ যখন বলছিলো- মা... আমাকে ছেড়ে যেওনা, আমাকে সাথে নিয়ে যাও, স্কুল এ সবার মা আছে...তখন রিনঝিন আর সহ্য করতে না পেরে পাগলের মতো কাঁদতে লাগলো।
বিধাতা উপরে বসে এই কাহিনীর কি সমাপ্তি লিখছিলেন জানিনা, কিন্তুআশ্চর্যজনক ভাবে লুব্ধ বাসায় ফিরে এই দৃশ্য দেখে ফেললো।
লুব্ধকে দেখে রিনঝিন কান্না থামিয়ে ওর দিকে তাকালো। রিনঝিন এর চোখের দিকে তাকিয়ে লুব্ধ ভয় পেয়ে গেলো। ওর চোখের মধ্যে একটা ভয়ংকর আকুতি ছিলো যা ফিরিয়ে দেয়া হয়ত স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার কাছেও অসম্ভব, তাই লুব্ধ চোখ সরিয়ে তাড়াতাড়ি ওখান থেকে চলেগেলো।
সন্ধ্যায় তূর্ণর জ্বর একটু কমে আসায় রিনঝিন লুব্ধর ঘরে গেলো।
- লুব্ধ আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিল।
- হ্যাঁ বলুন।
- আমি এ বাড়ি থেকে যেতে চাইনা।
- মানে কি?
- মানে আপনি ভালো করেই বুঝতে পারছেন লুব্ধ।
- না আমি পারছি না।
- আমি তূর্ণর মা হয়ে এ বাড়িতে থাকতে চাই।
- রিনঝিন, আমি তৃণার জায়গা কখনই কাউকে দিতে পারব না। দুদিনের আবেগে ভুল করে বসবেন না।
- আমি আপনার জীবনে তৃণার জায়গা নিতে চাইছি না, আমি শুধু তূর্ণর মা হতে চাইছি। তবে মিথ্যে বলবো নাআপনাকে, গত একটা মাসে রাতের পর রাত আমি ইচ্ছে করে জেগে থেকেছি আপনাকে নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে বলে, দুপুরে অনেক যত্নে রেধেছি তূর্ণর সাথে সাথে আপনারও তৃপ্তি করে খাওয়া মুখটা দেখব বলে। এর নাম যদি ভালবাসা হয় তবে হ্যাঁ আমি আপনাকে ভালবাসি। কিন্তু দেখুন না, পৃথিবীটা কত নিষ্ঠুর, ২৫টা বছর ধরে তিলতিল করে নিজের ভালবাসাগুলোকে জমিয়ে রেখেছিলামকোন এক সপ্নমানবকে উজার করে দেব বলে, অথচ আমার সপ্নমানব এমন এক বাস্তবরূপে আমার সামনে এলো যার খুব কাছে থেকেও হাত বাড়ালেও তাকে ছুয়ে দেয়া যায়না।
- লুব্ধ কি বলবে ভেবে পায়না। রিনঝিনের জন্য ওর খুব কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু কেন হচ্ছে সেটা ও বুঝতে পারছে না, শুধু গলার কাছে কি যেন দলা পেকে উঠে আসতে চাচ্ছে।এরকম ভয়ংকর কষ্ট তো ওর আগে কখনও হয়নি? রিনঝিনের কাজলে লেপটে যাওয়া চোখদুটো কি ওকে তৃণার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে? কেন ওর মনে হচ্ছে যেন রিনঝিন নয় তৃণা ওকে ডাকছে।
- লুব্ধ আমি চলে যাচ্ছি। রিনঝিন উলটো ঘুরে ফিরে আসতে লাগলো, ওর ভীষণ কান্না পাচ্ছে, লুব্ধ যদি একবার ওকে ডাকতো......।।
না রিনঝিন একা কাঁদছে না, ওকে সঙ্গ দিতেই বুঝি বৃষ্টি শুরু হলো। রিনঝিন ঘর থেকে বেড়িয়ে আঙিনায় দাঁড়িয়ে ভিজতে লাগলো... ওর পা যেন গেট এর কাছে যেতে চাইছে না, হাটু ভেঙে বসে পড়লো ও মাটিতে।
- রিনঝিন ঘর থেকে বেড়িয়ে যাওয়ার সাথেই লুব্ধ বুঝে ফেললো ওর কেন এত কষ্ট হচ্ছে। রিনঝিন এর চোখদুটো একবার ছুয়ে দিতে না পারলে, ওর হাতটা একবার ধরতে না পারলে এই কষ্টটা কমবে না। লুব্ধ ছুটে গেলো রিনঝিনকে আটকাতে, বৃষ্টির মধ্যে বসে কান্নারত রিনঝিনের সামনে গিয়ে বসলো লুব্ধ, কিন্তু একরাশ আড়ষ্টতা ওকে ঘিরে রাখায় ও কিছুই বলতে পারলো না। রিনঝিন লুব্ধকে এভাবে দেখে আচমকা ওকে জড়িয়ে ধরলো। লুব্ধর আড়ষ্টতাগুলোও যেন রিনঝিনের ছোঁয়ায় পালিয়ে গেলো।
আর তূর্ণ তখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে চশমা নাকের ওপরে ঠেলে দিয়ে বিজ্ঞের মতো বলে উঠলো- বাবা, মা তোমরা বৃষ্টিতে ভিজছো কেনো? বাংলা মিস বলেছে রাতের বেলা বৃষ্টিতে ভিজতে হয়না, তাহলে জ্বর আসে।
তূর্ণর কথা শুনে লুব্ধ রিনঝিন দুজনই হেসে ফেললো......।।

LIKE+SHARE+TAG+COMMENT
for next story

“এক সন্ধ্যায়” Part 02

তূর্ণ অনেক ভেবে ঠিক করেছে তূর্ণা নামের পাঁজি মেয়েটার সাথে সে কিছুতেই কথা বলবে না, এটাই ওর শাস্তি। কিন্তু স্কুল এ আসার পর থেকেই তূর্ণা আবার ওর পিছু লেগেছে। এত সিট থাকতে ওর পাশেরটাতেই বসতে হবে?
- অ্যাই তূর্ণ... দ্
যাখ আমি তোর জন্য কি নিয়ে এসেছি, তোর প্রিয় আলুর পরোটা।
- তূর্ণ ঠোঁট কামড়ে অন্যদিকে তাকিয়ে রইলো। মেয়েটা তো আচ্ছা দুষ্টু।
ক্লাস এ মিস চলে আসায় তূর্ণ যেন হাফ ছেড়ে বাচলো। কিন্তু ও কি জানত ক্লাস শেষে কি অপেক্ষা করছে ওর জন্য?
তূর্ণা একটা লাল গোলাপ ওর দিকে বাড়িয়ে বললো – তূর্ণ আমি তোকে ভালবাসি, হি হি হি...... ক্লাস এর সবার হাসি দেখে তূর্ণ রাগে ছুটে গেলো বাংলা মিস এর কাছে।
- বাংলা মিস সব শুনে অনেক কষ্টে হাসি চেপে তূর্ণ কে বললো- এটা তো তূর্ণা একদম ঠিক করেনি, সবার সামনে এভাবে বলা ঠিক না, কোথায় তূর্ণা?
- তূর্ণা কে মিস ডেকেছে শুনে ওর মনটাই খারাপ হয়ে গেলো, সে ভাবল আজ নির্ঘাত বকুনি খেতে হবে। তূর্ণ টা যে এত বোকা কেন ও ভেবে পায়না। ভয়ে ভয়ে মিসের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। মিস ওকে কাছে ডেকে বললেন-
- শুনলাম তূর্ণা নাকি তূর্ণ কে ভালবাসে?
- তূর্ণা সজোরে উপর নিচে মাথা ঝাকালো।
- হুম... কিন্তু ভালবাসতে হলে তো বড় হতে হবে, অনেক ভালো করে পড়াশোনা করতে হবে। তার আগে কাউকে এসব কথা বলা যাবে না, ঠিক আছে?
- তূর্ণা আবার মাথা ঝাকায়।
স্কুল এর পিওন কামরুল দরজায় এসে দাড়ায়- আপা তূর্ণর বাবা আসছে, ওকে ডাকে।
- ঠিক আছে তুমি ওনাকে এখানে নিয়ে এসো।
লুব্ধ দুইমাসব্যাপী একটা প্রোজেক্ট এর কাজ হাতে নিয়েছে, তূর্ণকে একদম সময় দিতে পারবেনা, তাই ও চাইছিলো স্কুল এর কোন টিচারযদি ওকে এই দু’মাস পড়াতো তাহলে ওর চিন্তাটা একটু কমতো, এজন্যই স্কুল এ আসা।
- ও আপনিই তাহলে তূর্ণর বাংলা মিস? আমার ছেলে সবসময় আপনার কথার উদাহরন দেয়।
- জি- আমি রিনঝিন।
- আপনি বাংলা মিস না হয়ে নাচের মিস হলে আপনার নামের সাথে বেশ মানাতো।
- রিনঝিন লুব্ধ দুজনই হাসে।
অবশেষে ঠিক হলো তূর্ণকে এই দু’মাসওর প্রিয় বাংলা মিস পড়াতে আসবে। তূর্ণ তো মনে মনে ভীষণ খুশি।
রিনঝিন আর তূর্ণ মাত্র কদিনেই একজন আরেকজনের খুব কাছে চলে এসেছে। তূর্ণ সারাদিন অপেক্ষায় থাকে কখন বাংলা মিস আসবে বাসায়, মাঝে মাঝে রিনঝিন স্কুল শেষে তূর্ণকে বাসায় দিয়ে আসে, তূর্ণ একদিন রিনঝিনকে বললো- জানো মিস, বাবাটা না একদম পঁচা রান্না করে। আমার একটুও খেতে ইচ্ছে করেনা। রিনঝিন এইকথা শোনার পর প্রায়ই স্কুল শেষে হোস্টেল এ না ফিরে তূর্ণর সাথে বাসায় চলে আসে, কোমরে শাড়ি পেঁচিয়ে রান্না করে, তূর্ণকে খাইয়ে দেয়। তূর্ণর শুধু মনে হয় ও ওর মাকে পেয়েছে। মা থাকলে নিশ্চয়ই এমনিকরে ওকে আদর করতো। ও প্রায়ই আবদার করে বসে, মিস সন্ধ্যা হলেই চলে যেতে পারবে না, কেন মিস এই বাসায় থাকতে পারেনা।
- এ কথা শুধু লুব্ধ আর রিনঝিন কে বিব্রতই করে। তবে তূর্ণর এসব কথা শুনতে শুনতে রিনঝিন এর মনের ভেতর নিষিদ্ধ একটা সপ্নের আনাগোনা শুরু হয়েছে, লুব্ধর দিকে তাকালে কেন জানি লজ্জা করে ওর। অজানা এক ভাললাগা সবসময় ওর মনটাকে ওই বাসায় টানে শুধু।
Next ParT

“এক সন্ধ্যায়” Part 01



তূর্ণর আজ খুব মেজাজ খারাপ। সে কারো সাথেই কথা বলছে না। বাবা স্কুল থেকে নিতে এসেছে, বাবার সাথে বাড়ি ফেরার পথেও রিক্সায় ও একটা কথাও বলেনি। বাবা অবশ্য দু’বার জিজ্ঞেস করেছে- কিরে ব্যাটা, মুখের ভেতর কি ভাপা পিঠা ঢু
কিয়ে রেখেছিস নাকি? কথা বলিস না কেনো? বাবাটা যে কি না? মুখের ভেতরে কি কখনও ভাপা পিঠা রেখে দেয়া যায়? যতই দিন যাচ্ছে বাবাটা ততই বোকা হয়ে যাচ্ছে।

বাসায় ফিরেই তূর্ণ চুপ করে সোফার উপর পা তুলে বসে পড়লো। লুব্ধ ছেলের গুরুগম্ভীর চেহারা দেখেই বুঝেছিলো কিছুতো একটা ঘটেছে স্কুলে, তাই সেও সোফায় তূর্ণর পাশে ওর মতো করেই পা তুলে বসে পড়লো।
তূর্ণ ডান হাতের তর্জনী আঙুল গালে দিয়ে গভীর চিন্তায় ব্যস্ত। লুব্ধও ছেলের দেখাদেখি গালে আঙুল দিয়ে ভাবতে লাগলো। তূর্ণ আড়চোখে বাবাকে দেখে গাল থেকে হাত সরালো।

- বাবা তুমি আমাকে নকল করছো কেনো? বাংলা মিস বলেছে নকল করা খুব অন্যায়।

- আচ্ছা যা আর নকল করবো না, কিন্তু তোর কি হয়েছে সেটা আগে বলতে হবে তো।

- আমার খুব রাগ হয়েছে বাবা।

- কার উপর বলেই দ্যাখ না, বাবা আচ্ছা করে বকুনি দিয়ে দেবে।

- ক্লাস থ্রীর নিত্য ভাইয়া আমাদের ক্লাস টু এর ব্ল্যাক বোর্ড এ লিখেছে তূর্ণ+ তূর্ণা, বাবা এটা কি কোন অংক হলো বলো? আমি কি কোন সংখ্যা যে যোগ করা যাবে?

- ও... তাহলে তোর রাগ হয়েছে নিত্যর উপরে?

- উহু...
-তাহলে কার উপর রে ব্যাটা?

- আমি যখন নিত্য ভাইয়াকে বলছিলামযে এভাবে তো যোগ হয় না, তখন তূর্ণাটা না খুব হাসছিলো। আমাকে বললো, তূর্ণ এভাবে যোগ করে লাভ হয়। লাভ মানে ভালবাসা, বলেই হি হি করে হাসতে লাগলো, আর ওর দেখাদেখি সব্বাই হাসতে শুরু করলো।

- লুব্ধ তার ছয় বছরের ছেলের কথা শুনে হেসে ফেললো।

- তূর্ণ চোখের চশমা ঠিক করতে করতে বললো, বাবা তুমি এরকম পঁচা করে হাসছো কেনো? এটা কি হাসির কথা?
- লুব্ধ অনেক কষ্টে হাসি চেপে বললো-হ্যাঁ তাইতো, এটা মোটেও হাসির কথা না, এই দ্যাখ, আমি আর হাসবো না, এই বলেই লুব্ধ আবারও হেসে ফেললো।
- বাবা তুমি খুব দুষ্টু হয়ে গেছো,বড়দের দুষ্টুমি করতে হয়না।
তূর্ণ হনহন করে হেঁটে ওর ঘরে চলে গেলো। ওকে এখন অনেক ভাবতে হবে, কিভাবে তূর্ণা নামের ক্লাস এর সবথেকে পাঁজি মেয়েটাকে শায়েস্তা করা যায়।
লুব্ধ অবাক হয়ে ভাবে, ছেলেটা কারমতো হয়েছে? ওর মাও তো ভীষণ চটপটেছিলো।
তৃণা দেখেছো, তোমার ছেলে ঠিক তুমিযেমন চেয়েছিলে তেমনি হয়েছে। তুমি বলতে না, “আমার ছেলেকে আমি আইনস্টাইন বানাবো, আমার ছেলে অকারনে কথা বলবে না, শুধুই ভাববে আর ভাববে।” হ্যাঁ, তোমার ছেলে পিচ্চি আইনস্টাইন হয়েছে। কেনো চলে গেলে তৃণা? তোমার পিচ্চি আইনস্টাইন কে দেখেও গেলেনা একবারের জন্য। ওই যে উপরে একজন বসে আছেন, তার সাথে কি তোমার চুক্তি হয়েছিলো, তূর্ণ চোখ খুললেই তোমার চোখের পাতা বন্ধ করতে হবে? তাই যদি হয় তবে উনি আমার সাথে কোন চুক্তি করলেন না কেনো? তুমি সবার সাথে সাথে কি উনারও খুব পছন্দের ছিলে? লুব্ধর চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। তৃণা বেঁচে থাকতে ও বারবার তৃণার কাছে অভিযোগ করতো, জীবনটা এত ছোট কেনো? অথচ তখনকার মনে হওয়া সেই ছোট জীবনটা আজ লুব্ধর গলায় আটকে যাওয়া কাঁটার মতো মনে হয়, যেই কাঁটা গলায় নিয়ে প্রতিটা মুহূর্ত গিলতে হয় ওকে। তূর্ণ না থাকলে কবেই চলে যেত ও তৃণার কাছে, ওর তৃণা যে একা থাকতে ভীষণ ভয় পায়। লুব্ধর মাঝে মাঝে মনে প্রশ্ন জাগে, ওর ছেলেটা মায়ের ভালবাসা না পেয়েই এমন সবার থেকে আলাদা হয়ে যায়নি তো?
- বাবা খাবে না? আমার ক্ষুধা পেয়েছে।
- লুব্ধ চোখ মুছে হেসে উত্তর দেয়,হ্যাঁ আমারও ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছে। চল, তোকে আমি আজ নিজ হাতে খাইয়ে দেবো।
- বাবা ছোট বাচ্চাদের খাইয়ে দিতেহয়, আমি তো অনেক বড় হয়ে গেছি।
- হুম...ঠিক আছে তাহলে তুই আমাকে খাইয়ে দিস।
- তুমি রান্না করবে কখন? এত কথা বলে সময় নষ্ট করো কেনো? আজ তো বুয়া আসেনি।
- বলিস কি রে? চল, দেখি কি রান্না করা যায়।
তূর্ণ চুলোর পাশে টেবিলের ফাঁকা জায়গায় বসে আছে আর লুব্ধ ডিম ভাঁজি করার চেষ্টা করছে।

- এইবার দ্যাখ, বাবা কিরকম ডিম ভাঁজি করে, এরথেকে ভালো ডিম ভাঁজিপৃথিবীর কেউ করতে পারবে না, তোর বাবা তো সবার বড় মাস্টার শেফ্ বুঝলি? ডিম যখন তেলে দেয়া হলো তখন তো লুব্ধ খুব খুশি নিজের কৃতিত্বে কিন্তু ডিম উল্টাতে গিয়ে ওর হাসি মিইয়ে গেলো কারন কড়াই মশাই ডিমটাকে নিজের সম্পত্তি মনে করে জোর করে ধরে রেখেছে।
- লুব্ধ ছেলের দিকে তাকিয়ে ভ্যাবলা মার্কা হাসি দিয়ে বললো- এটাই তো এই ডিম ভাঁজির বৈশিষ্ট্য,টুকরো টুকরো হয়ে থাকবে, কখনও খেয়েছিস এমনটা?
- তূর্ণ তার স্বভাব মতো কথা না বলেচশমাটা নাকের কাছ থেকে উপরে তুলে দিলো।
খেতে বসে লুব্ধ ছেলেকে জিজ্ঞেস করলো কেমন হয়েছে ব্যাটা? তূর্ণ চুপচাপ খেতে থাকলো।
- কিরে বলনা কেমন হয়েছে খেতে?
- বাবা এত খারাপ ডিম ভাঁজি আমি কখনও খাইনি।
- লুব্ধ আবারও ওর বিখ্যাত ভ্যাবলামার্কা হাসি দিয়ে বলে, এভাবে বলছিস কেনো? খারাপ হলেও মানুষকে খুশি করার জন্য ভালো বলতে হয়।
- মিথ্যা বলা মহাপাপ বুঝেছো বাবা?বাংলা মিস বলেছে কষ্ট পেলেও সত্যি কথা বলতে হয়।
- সবসময় এত বাংলা মিস বাংলা মিস করিস কেন? তোর বাংলা মিস কি সবজান্তি শমসেরনি নাকি?
- বাবা সবজান্তি শমসেরনি নয়, সবজান্তা শমসের। আর হ্যাঁ বাংলা মিস সব জানে।
- ঠিক আছে আমার আব্বা মানলাম বাংলা মিস সব জানে।
- বাবা আমি তোমার আব্বা কিভাবে হবো? তুমি এত বোকা কেন বাবা?
- ওরে...... আচ্ছা যা, আমি তোর আব্বা। এবার ঠিক আছে?
- হুম।
Next Part