রবিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১২

=====কঠিন লাভার====

এটি একটি Break up hobar golpo আজ(০৫.০৮.২০০৮) ওর শেষ পরীক্ষা সম্ভবত।আজকে যদি ওর দেখা না পাই তবে আর জীবনেও পাবো না।এমন একটি আশা নিয়ে খুব জিদ করে যাই নিউ মার্কেট এ দেখা করতে।ওর 
সাথে দেখা হয়নি দীর্ঘ সাত মাস।ওর ক্লাসমেট ২ টা থেকে জানলাম আজকেই ওর পরীক্ষা শেষ এবং আজকের পরিক্ষার পরেই মনে হয় ওর ফ্যামিলি ওকে ট্রান্সফার করে চিটাগাং নিয়ে যাবে।এইসব আমি শুনেছি ওর ক্লাসমেট দের থেকে।মনের ভিতরে তো আরও ভয় ঢুকে গেল। শালা,প্রেম করছে আমার সাথে,বিয়া হবে অন্যের সাথে। তা কিভাবে হয়? আজকে যেভাবেই হোক তুলে নিয়ে আসমুই ওরে।আমার একটা ফ্রেন্ড ও যাবেনা আমার সাথে।কারন ইডেন কলেজের সামনে কোন ঘটনায় তারা জড়াতে চায়না। জানে,কপালে শনি আছে তাদের এবং আমার যদি ধরা পরি। ওর সিট পরেছে ঢাকা কলেজে।যেহেতু ও ইডেনের ছাত্রি। ঠিক ১ টায় পরীক্ষা শেষ হবে জানি।আমিও ওকে দেখায় আশায় সকাল থেকে না খেয়ে চন্দ্রিমা মার্কেটে সিগারেট একটা পর একটা মুখে নিয়ে দারিয়ে আছি।কখন যে আসবে ও। ১ টা বেজে গেছে।সব বের হচ্ছে ঢাকা কলেজ থেকে। আমি জানি ওকে চন্দ্রিমার সামনে দিয়ে যেতে হবে।যেহেতু ওকে যেতে হবে প্রতিদিনের মতই ফাল্গুনে করে রামপুরা মামার বাসায়। ১ টার পরে দেড়টা বেজে গেছে।এখনো সেই আসছেনা।দিলাম Turjo রে কল।কিরে ব্যাটা এতো মাইয়া রে বের হইতে দেখি ওরে দেখিনা কেন?ও বলে,দেখ ভিড়ের মধ্যে তোর চোখ ফাকি দিয়ে চলে গেল কিনা।আমি বললাম,ওর আগা ছে গোঁড়া আমি চিনি।ও বোরকা পরুক আর নাই পরুক আর তালেবানি মহিলাদের মত পুরো শরীর ও যদি ঢিলা- ঢালা বোরকা দিয়ে ঢেকে আসে তবুও আমি হাজার মেয়ের মাঝে থেকে বেঁছে নিবো। ২ টা দশ বেজে গেছে।হঠাৎ দেখি তাহার মতই কেউ একজন আমার নজরে পরছে।সাথে ৩/৪ টা ইবলিশ টাইপ মাইয়া মানুষ।আমার জানা আছে এইগুলারে ভালো করে। তবে নেই একজন জল্লাদ নারী ওর ক্লোজ ফ্রেন্ড “জেরিন”।এই মহা সুযোগ তাহলে।কেউ আমাকে আজকে আঁটকাতে পারবেনা। ঠ্যাং তো পুরাই কাপাকাপি শুরু হয়ে গেল। পিছু পিছু হেটে যাচ্ছি এই দলের সাথে ফাল্গুনের কাউন্টার এর দিকে। ঠ্যাং কাপাকাপি মাঝেও কল দিলাম আবার তুর্য রে। কিরে ব্যাটা আমার তো এই অবস্থা।ও সামনে দল নিয়ে হাঁটছে। আমি পিছু পিছু যাচ্ছি।তখন আমি কেদেই দিলাম ওকে এত মাস পরে দেখতে পেয়ে।তুর্য আমাকে একটু সাহস দিয়েই কল কেটে দেয়।নিলখেত মোড়ের কাছে যেয়েই ওর ফ্রেন্ড রা রাস্তা পার হতে যেয়েই পেছনে তাকায় আর আমাকে দেখে ফেলে।দেখেই ওকে বলে দেয়,দেখ প্রিয়া,ইউসুফ তোর পেছনে।:-O ও আমার দিকে এমন ভাবে তাকায় যেদিন ওর সাথে আমার প্রথম দেখা হয় সেদিন যেমন ভাব নিয়েছিল আজকেও তেমন ভাব নিয়ে তাকিয়ে বলে,তুমি এখানে?কেন আসছ?চলে যাও এখান থেকে।নাহলে অবস্থা খারাপ হবে বলে দিলাম কিন্তু। এইসবে কি আমি আর তোয়াক্কা করি? ততক্ষনে উনার ফ্রেন্ড রা ভাগছে আমাকে দেখেই।৫/৬ মিনিট রাস্তা পার না হয়েই বক বক করলাম দুজনেই। রাস্তা পার হয়ে ফাল্গুনের কাউন্টারে আর ওর যাওয়া হয়নি যেহেতু আমার হাতে ধরা পরছেই।কাউন্টার এর একটু আগেই শুরু হল দরবার দীর্ঘ ৭ মাসে যা যা অপকর্ম আমার দ্বারা হয়েছিল তার।এভাবেই তর্কাতর্কী তে সময় চলে যাচ্ছে।আমিও ওকে আজকে তুলে নিয়ে যাবই যাব।কিন্তু আমি একলা।কিভাবে সম্ভব?বন্ধুদের ফোন দিলেও লাভ হচ্ছেনা।কেউ এই নিলক্ষেতের মোড়ে আসবেনা গেঞ্জাম করতে।ঠ্যাকা তো আমার।আমাকেই করতে হবে।ওদের কথা,তুই কোনোরকম চিটাগাং রোডে নিয়া আয়।বাকি সব আমরা করবো। যাক,এই তর্কাতর্কী তে অনেক পাব্লিক এসে নাক গলাইছে। ভাই,কি হচ্ছে এইসব?বাসায় নিয়া যান।যা করার ওখানেই করেন।আমি জবাব দিলাম,যায় না তো ভাই।গেলে তো এত কিছু হয়না।:-D ওর কথা,ও আমার সাথে যাবেই না।আসল কাহিনি হচ্ছে (অনেক দিন পরে জানলাম),আজকে ওকে ওর মামার বাসায় কোন একজন টাক মাথার এডভোকেট(চোর জাতি) ওকে দেখতে আসবেন।তাই উনার মন পরে আছে সেখানেই। সেইদিন যদি আমি তাকে ছেড়ে দিতাম তবে আজকে সেই ব্যাটার বউ হইত সে। সময় হয়ে গেছে বিকাল ৪ টা।সেই এক জায়গায় ই দুজনে দারিয়ে বক বক করেই যাচ্ছি।ও তো যাবেইনা।আর আমিও তাকে ছাড়া যাবোইনা। অনেক সিএনজি কে ডাকলাম কিন্তু কেউই যাবেনা চিটাগাং রোডে।তাহলে উপায়? বোরাকে যেতে হবে।বোরাকের কাউন্টার রাস্তার ঠিক ওপারেই।ওর হাত ধরেই আছি আমি।ছেড়ে দিলেই পাখি উড়াল দিবেই মাস্ট। জোড় করে রাস্তা পার করালাম।রাস্তার দুপাশ থেকে মানুষজন দেখেই হাসাহাসি করতেছে।কি অবস্থা। :-O ওকে হাতে ধরে নিয়ে আসলাম গার্হ্যস্থ অর্থনীতি কলেজের গেটের সামনে।ওখানেই কাউন্টার।গাড়ির জন্যে অনেকেই দারিয়ে আসছে।আমিও দাঁড়ালাম।আর উনি ভেগে যাওয়ার চিন্তা করতেছে। আমি মানি ব্যাগ ১ হাতে নিয়ে টাকা দিলাম কাউন্টারে টিকিটের জন্যে।অন্য হাতে সে।আমি ১ হাতে টিকেট আর মানি ব্যাগে টাকা রাখতে পারছিলাম। তাই মানিব্যাগ টা টেবিলে রেখে ১ হাতে টাকা ঢুকাচ্ছি মানিব্যাগে।এই ফাকে উনি চান্স পেয়ে দিছে পাম্পের দিকে দৌড়।আমিও মানিব্যাগ ফেলেই দিলাম দৌড় উনার পেছনে পেছনে।উনাকে ধরে নিয়ে আসলাম আবার কাউন্টারে।এসেই দেখি মানিব্যাগ ঠিক মতই আছে। কারন কাউন্টারের আশেপাশের সব আমার ব্যাপারে এতক্ষনে আন্দাজ করে ফেলেছেন।যাক গাড়ি আসলো। উনি গাড়িতে ও উঠেনা।সবাই উঠে গেল।আমি ২ টা সিট রেখে দিলাম আগে থেকে চিৎকার দিয়ে। উনাকে কোলে নিলাম।নিয়ে কোন রকম গাড়িতে উঠে বসলাম আর গাড়ি ছেড়ে দিল।সব মানুষ ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে আমদের দিকে। :-O যাক,চিটাগাং রোডে এসে নামলাম আর পাশের একটি পরিচিত চাইনিজ রেস্টুরেন্টে আমার বন্ধুরা অপেক্ষমান আমাদের জন্যে।সেখানে শুরু হল আরকটি দরবার বন্ধুদের নিয়ে। সে আমাকে বিয়েই করবেনা। এর মুল কারনঃ মাঝের ব্রেক আপ সময়ে তার ফ্যামিলির সাথে আমার অনেক বড় ঝামেলা হয়েছে।আমারই ভুল হয়েছে। অনেক হাঙ্গামা গেছে এই ৭ মাসের প্রথম ৩ মাসে যা ও জানতোনা।এবং ও জানতে পারে অনেক পরে।আমার এই ভুলের প্রাঃশ্চিত্ব আমি আজো করছি।জানিনা কবে এর ক্ষমা আমি পাব। যাইহোক,সন্ধ্যা ৭ টায় এই দরবার শেষ হয় তাকে রাজি করিয়ে যে আমাকে বিয়ে করবে। এর মাঝে তার মামা আমাকে ফোন দিয়ে বলেছিলেন,আমার ভাগ্নিকে সুস্থভাবে আমার বাসায় নিয়ে এসো।নাহলে তোর… ব্লা ব্লা ব্লা । আমি কি আর এইসবে কান দেই? ততক্ষনে উনি আমার নামে লালবাগ থানায় মামলা দিয়ে দিছেন।এটাও প্রিয়া নিজেই তুলে নেয় প্রায় ১ মাস পরে।এর মাঝেই পালিয়ে ছিলাম নিজের এলাকায়ই। আমিও ভয়ে ফোন অফ করে দিইলাম।সিম চেঞ্জ করলাম কয়ক দফা।কারন আমার সব নাম্বার তার গোস্টির কাছে আছে। চলে গেলাম অনেক দূরে এক বন্ধুর বাড়ীতে। সেখান থেকে কাল আসব শহরে বিয়ে করতেd
দ্বিতীয় কিস্তি…
ডেট লাইন ০৬.০৮.২০০৮ থেকে… কাল রাতে বাহিরে ছিলাম।কারন,এক বন্ধুর বাসায় রাত্রিযাপন হয়েছে। গতকালের ঘটনা তো অনেক মজায় মজায় পড়লেন। আজকে হয়তো তা আর থাকবেনা।কারন কালকের টা রোমাঞ্চকর গল্প হলেও আজকের তা হরর এর মত এবং এর চেয়েও ভয়ঙ্কর। কারন এইটা একটা লাইফ এবং এর যে কত রকমের অর্থ আছে তা যে যার অবস্থানেই ভালো উপলব্ধি করতে পারবেন। যাক,একটা আশ্চর্যের কথা হচ্ছে,কাল যখন ওকে আনতে গিয়েছিলাম ওর কলেজের ওখানে তখন আমার পকেটে টোটালি তিনশো টাকার মতই ছিল।সব খরছ করে যখন চিটাগাং রোডে আসি এবং চাইনিজ রেস্টুরেন্টে দরবারে বসি তখনও আমার পকেটে একশো বা এর বেশি কিছু টাকা ছিল।আজকে একদম ফুরুত হয়ে গেছি আমি। আবার আজকে নাকি বিয়া করুম!!!! এখান থেকে বিদায় নিয়ে আবার
চিটাগাং রোডের দিকে আসলাম।ওকে চিটাগাং রোডে এক বন্ধুর স্টুডিওতে বসিয়ে রেখে বাসায় আসলাম ড্রেস চেঞ্জ করতে। ড্রেস চেঞ্জ করলাম আর বাসায় মিথ্যে বলে বের হয়ে গেলাম।কাল রাতে কোথায় ছিলাম এবং আজকে কোথায় যাচ্ছি এইসব আর কি।আজকেও অফিসে জাচ্ছিনা কেন এইসবে কান দিলাম না।শুধু ঘর থেকে বের হয়ে গেলাম পাগলের মত।কারন আমার জন্যে আরেকজন অধির অগ্রহে বসে আছেন।পকেত সম্পূর্ণ খালি।কাল তো বন্ধুদের থেকে নিয়েই চলছি।আজকেও অন্য বন্ধুদের খোঁজে বের হলাম এবং পেয়েও গেলামএকজন বন্ধু আমার অনেক হেল্প করেছে। জাকির এইসবে আবার পটু।ওকে দিয়ে হিসেব করলাম কাবিন/ টাবিন এর টাকা কত লাগতে পারে?হিসেব করে জোগাড় করেই ওর কাছে আসলাম।দুইজনেই বিয়ের জন্যে স্টুডিওতে ছবি তুললাম পাসপোর্ট সাইজের।তারপর বের হয়ে জাকির সহ চলে গেলাম নারায়নগঞ্জ কোর্টে একটা সিএনজি তে চেপে।যেতে যেতে ওর সাথে ফয়সালা করলাম কত কাবিন দিবো বা বিয়ের ব্যাপারে। ওরে বাপরে!!!!!!! কোর্টে যেয়ে দেখি কত ছাগল আমার মত দাঁড়িয়ে আছে এইসব ছাগলামি করতে।আমি দেখেই তো টাস্কি খাইলাম।জাকিরের পরিচিত উকিল ছিল।বাহিরে বসে বসে দুজনে গল্প করছিলাম।আর জাকির বিয়ের প্রস্তুতির কাজে বিজি। আমি কাল থেকেই সিম চেঞ্জ করে ফেলায় কেউ আমাকে পাচ্ছেনা।এটা আমার মাথায়ই নেই।আমি তো এখন নতুন স্বপ্ন নিয়েই আছি। সময় তখন বারটা ওভার হয়ে গেছে।এক মহুরি বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেল।অনেক আগের ক্লাসমেট ছিল সে। যে কিনা এই কাজ করেই বিয়ে করেছে। সে আমাদের দেখেই বুঝে গেছে। ওকে কোন রকম লাম ছাম বুঝিয়ে বিদায় দিলাম।দুপুর একটায় উকিল দেকে পাঠালো আমাকে। - দেখেন,কোন গেঞ্জাম আছে কিনা যে এই মেয়ে কে বিয়ে করতে আনছেন? - কি বলেন?গেঞ্জাম কেন থাকবে?আর আপনি এইসব কেন বলছেন? - আরে নাহ ভাই।মেয়ে ঠিক আছে তো,তাকে যে আপনি বিয়ে করতে আনছেন? - আবার জিগায়।আপনার কি মাথা ঠিক আছে নাকি?আপনার কি মনে হয় আমি পাগল? - বলেন কি?পাগল না হইলে কি এইখানে বিয়ে করতে কেউ আসে? এই কথা বলে উনি হেসে দিছে। আমি - না না সে রাজি আছে। - আবার দেইখেন,ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে যদি মেয়ে উল্টা- পাল্টা কিছু করে তাইলে আপনি,আমি,জাকির সহ সব চৌদ্দ শিখের ভেতরে ঢুকে যাবো কিন্তু। - হায় হায়।নাহ এমন কিছুই হবেনা।(মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ ডাকি যাতে প্রিয়া উল্টে না যায়।কালকে অনেক কষ্ট হইছে তাকে রাজি করাইতে ) - যাক তাহলে একটু পরে আমি ডাকছি আপনাদের। - আচ্ছা ঠিক আছে। অপেক্ষায় রইলাম জীবনের অন্য রকম একটি মঞ্চে উঠার। মনের ভিতর যে কি উল্লাস টা হয়তো কেউই বুঝবেন না।কিন্তু এর পেছনেই আছে প্রচণ্ড ভয়।এক্সময় ডাক পড়ল আমাদের। গেলাম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে।জাকির সমস্ত কাগজ পত্রের ব্যাবস্থা করে ফেলছে।আমরা শুধু গিয়ে বসলাম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে।বসেইতো আমার হাত-পা কাঁপা- কাপি শুরু হয়ে গেলো।সত্যি বলছি। ম্যাজিস্ট্রেটের প্রিয়াকেই জ্জিজ্ঞেস করলেন,আপনার পরিচয় পত্র বা আপনার আঠারো বছর হয়েছে কিনা। প্রিয়া তার ইডেন কলেজের আইডি কার্ড বের করে দেখায় এবং সাথে ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল এক্সাম এর প্রবেশ পত্র দেখায়।আমাকে বলে,আপনার?আমি বললাম,জি আমিও প্রাপ্ত বয়স্ক।আমার মাথা পুরাই টাল হয়ে গেছে এই পরিস্থিতিতে। কি থেকে কি বলব মাথায় কিছুই ঢুকছেনা।তারপর কি কি যেন লেখালেখি করল এফিডেভিট পেপার/কাবিন নামা/ স্ট্যাম্পে। দুজনের ছবি সহ এটাচ করল স্ট্যাম্পে।দুজনের সাইন নিবে এবার।আমার হাতে কলম ধরিয়ে দিয়েছে উকিল। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা,আমি আমার মায়ের জন্যে জীবনেও এত কাঁদিনি যতটা কেঁদেছি আজকে এই সাইন করতে যেয়ে কলম টা হাতে নিয়ে।আমার হাত কাঁপতে কাঁপতে সাইন ও হয়েছে বাঁকা। মা’কে অনেক মনে পড়ছে।এই ভেবে যে,জানিনা মা,তোমাকে খুসি করাতে পারবো কিনা তোমার এই পুত্রবধু দেখিয়ে।আর তোমার অনুমতি ছাড়াই করছে এই বিয়ে।একই সাথে কান্না করছি প্রিয়ার কথা চিন্তা করে। সে ও ভেতরে ভেতরে না জানি কেমন অশ্রুসিক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু বাহিরে তার কিছুই দেখা যাচ্ছেনা। ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে বলে,আপনি কাঁদছেন কেন?সসব সময় দেখে আসলাম মেয়েরা কাঁদে।আর আজকে দেখছি ছেলেরা কাদছে।প্রিয়াও আমাকে সান্ত্বনা দিতে পারছেনা।আমি তখন তার ভিতরের টা দেখেছি।সে কেমন কান্না করছে ভিতরে ভিতরে। বিয়ের এই কাজ শেষে উঠে গেলাম বাহিরে।তখনও কাঁদছি। জাকির ও আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে।প্রিয়া চুপচাপ কাঁদছে। জাকির কে একটু পরে বিদায় দিলাম।এবার কোথায় যাবো দুজনে জানিনা। আমার নতুন সিম থেকে প্রিয়ার বাসায় কল দিলাম যেন ও জানিয়ে দেয় যে সে বিয়ে করছে। ওর নানু কল ধরেছিলো।সে যে কি গালাগালি ওকে। ও বিয়ে করেছে এই কথা বলেই চুপ।ওপাশ থেকে কি কি বলছে আমি শুনেও না শুনার ভান করে আছি। কি আর বলবে?কপালে যা আছে তাই হবে। কথা শেষে দুজনে গাড়িতে উঠে রওনা দিলাম আমার অফিসের দিকে।কারন আমার পকেট খালি।ওখানে যেয়েই বন্ধু ইঞ্জিনিয়ার হাসান এর সাথে দেখা করি এবং কিছু মেনেজ করি।ওখানে কয়েকজন কলিগ এর সাথে দেখা করতে করতেই সন্ধ্যা হয়ে গেল। সেইদিন ছিলাম অফিসের পাশের একটি পরিচিত হোটেলে। পরের দিন অফিস করলাম ওকে হাসানের বাসায় রেখে। এর মধ্যে আমার বাসায় জানাজানি হয়ে যায় আমি এখন বিবাহিত।:-O তাও কিভাবে? প্রিয়ার বড় খালুর এক কলিগ আমার গ্রামের বাড়ির পাশের বাড়ির লোক।আই মিন আমার চাচাতো ভাই। সেই আমাদের পুরো গ্রাম জানিয়ে দিয়েছে যে আমি অমুকের মেয়ে কে বিয়ে করছি।গ্রামের বাড়ি(চট্টগ্রাম) থেকে খবর আসে আমার নিজ বাড়ীতে(ঢাকায়)। প্রিয়া মামা কিভাবে যেন আমার বাবার মোবাইল নাম্বার জোগাড় করেছেন।জানিয়ে দিলেন বাবার ছেলের কর্মকাণ্ড। বাবার মাথা পুরাই সিক্সটি নাইন।বাবার মতই ভয় পেতাম বড় ভাইকে।মাথা সিক্সটি নাইন বাবার মতই বড় ভাইয়ের টা।আমি কি আর এই দেশে থাকতে পারি এখন???? আবার শুনলাম,আমার গ্রামের বাড়ীতেই ছলে গেছে মামলার ওয়ারেন্ট। আজকেই চলে যেতে হবে অচিনপুর। ওকে নিয়ে বন্ধুদের খবর দিয়েই চলে গেলাম নারায়ানগঞ্জ এর শেষ সীমানায় এক বন্ধুর নানীর বাড়ীতে। বাবা কিভাবে যেন আমার নতুন নাম্বার পেলেন।আর কল দিয়েই গালির বয়ান করলেন।আমিও শুনেই যাচ্ছি।কিছুক্ষন পরে বললেন,পুলিশের ঝামেলায় আমি নাই।আমি তোকে ত্যাজ্য করে দিবো।আমি তো মনে মনে বলি,বাবা আপনি তো জানেন না যে,খালেদা আফা এই সিস্টেম টা ডিলিট করে দিছে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে।মনে মনে এই আশ্বাসে অনেক খুশিই ছিলাম আমি।আমার মত সেম কথাটা প্রিয়াকেও ওর নানী বলছিলো।আমিও সেম মন্তব্য করেছিলাম মনে মনে তখন। এর পর পালিয়ে বেড়ালাম ৪/৫ দিন বিভিন্ন জায়গায়। শুনছি এবং খবরও আসছে বাসা/এলাকা থেকে পুলিশ ও নাকি কয়েকবার এলাকায় এসেছে।বাসায় আসেনি। বন্ধুরা ট্যাকেল দিয়েছে।বাবার সামনে পুলিশ আসলে মনে হয় বাবার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে যেতো।কারন এর আগে কখন আমাদের ফ্যামিলি এইসবে জড়ায়নি। এরমাঝে আম্মু ছোট ভাইকে দিয়ে আমাদের জন্যে বিভিন্ন জিনিস পাঠাতো যেখানে পালিয়ে ছিলাম।ছোট ভাইকে বন্ধুরা নিয়ে যেতো আমার সাথে দেখা করার জন্যে। তবে খুব সতর্ক অবস্থায়।বড় ভাই তো পুরাই হট আমার উপর।এর ১ দিন পরেই মাথায় জেদ চেপে বসে।কেন আমাকে মেনে নিবেনা বা আমি কেন পালিয়ে থাকবো? ছলে গেলাম নিজের এলাকায় এবং এক বন্ধুর বাড়ীতেই নিচ তলায় ফ্ল্যাট ভাড়া(নাম কা ওয়াস্তে) নিলাম। দেখি কে কি বলে এখানে থাকলে।বাবা কেও নাকি অনেকেই কথা শুনায়।জেই শুনাবেন চাপা চাপার জায়গায় রাখমুনা এমন একটা জেদ কাজ করছে।কিন্তু এই বাসায় রাতে ঘুমানোর সময় পুলিশের ভয় ঠিকই থাকতো যদি রাতেই চলে আসে!!! মোবাইলে অনেক টাকা ঢুকিয়ে রেখে দিতাম যদি এমন হয় তবে সবাইকে কল করে ডাকতে হবে।অবশ্য পুলিশ আসলেও এলাকার বাহিরে নিতে পারবেনা এটা সত্য।কারন,তেমন শেল্টার ও ছিল রেডি। কাজের খাতিরে পুরনো সিম ওপেন করলাম। একদিন ফোন আসে লালাবাগ থানা থেকে।ওসি অনেক ভালো মানুষ তার কথায় বুঝলাম।বলল আপনাদের কাবিননামা,নিকাহনামা আমাকে পাঠান কুরিয়ারে।এর দুইদিন আগে ছোট ভাইকে দিয়ে লালবাগ থানা থেকে মামালার ডুপ্লিকেট কপি আনিয়েছি। তখনও কিন্তু আমরা ইসলামিক দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রি নই। কিন্তু আমাদের চলাফেরাও আল্লাহ দেখছেন যে আমরা কিভাবে ছিলাম।ইটস নত এ ম্যাটার। নিকাহনামা কই পাবো?আসলে আমার তখন টাকার খুবই অভাব ছিল দেখে এই কাজটা বাকি ছিল।সেইদিন কিছু মেনেজ করলাম এক বন্ধু থেকে।সরাসরি আবার সেই কোর্টের কাজি অফিসে যেয়ে কাজ টি সারলাম ১৪ই আগস্ট ২০০৮ এ। অর্থাৎ আমাদের বিয়ে বার্ষিকী এই ১৪ তারিখ। তারপর সেই কাগজ পত্র পাঠাইলাম থানায়।ওসি বলল দেখা করতেই হবে আমাকে।আমার তো কলিজায় পানি নাই। একটা কথা না বললেই নয়।আমি কিন্তু বিয়ে করেছি আমার বড়জন আই মিন আমার মেঝ ভাইয়ের আগেই।সবাই আমাকে একটা কথাই বলে আর কথা শুনায় যে,তুই তোর বড় ভাইয়ের আগেই বিয়ে করে ফেলছস? আমার সোজা উত্তর,আরে ব্যাটা,জন্ম-মৃত্যু-বিয়ে আল্লাহর হাতে। জন্মের পরের দুইটা অংশের প্রথম টা আই মিন মৃত্যু টা যদি আমার মেঝ ভাইয়ের আগে হতে পারে তবে পরের অংশটা আমার মেঝ ভাইয়ের আগে হতে পারবেনা কেন? আশা করি আর কারো এই ব্যাপারে প্রস্ন থাকবেনা। বিয়েটাই আল্লাহর হাতে এটাকে মেনে নিতেই হবে। মেঝ ভাইয়ের সাথে এলাকায় দেখা হয় যখন তখন চিপায় চলে যাই।যদিও বড় ভাই তাই তার কাছে হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়ে নিই।ক্ষমা পেলাম এক স্টেপ। নেক্সট,আম্মু আসে সেই বাসায় হঠাৎ একদিন সন্ধার পরে। এসেই কান্নাকাটি করে।আমি আর প্রিয়া সালাম করেই মাফ চেয়ে নিলাম।আম্মু ওকে একটা রিং পরিয়ে দেয়।আর অনেক কাপড়-চোপড় ও আনে।সাথে একটা বোরকা। :-O এর সাথে গৃহস্থালি জিনিস তো আছেই।এইসব আবার বড় ভাই আর আব্বু জানেনা।জানলেই আম্মুর খবর আছে।:-O যাইহোক,রমজান চলে আসে।অনেক কষ্টে জীবন অতিবাহিত হচ্ছে নিজ পকেটের সামান্য টাকায়। দশ রমজানে বড় ভাই বাবার সাথে বাসায় আলাপ করলেন এই অবস্থায় থাকা যায়না।কিছু করতেই হবে। আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বড় ভাইয়ের একজন এডভোকেট ক্লাসমেট বন্ধুর ভিজিটিং কার্ড দিয়ে পাঠিয়ে দিলেন। আমি আর প্রিয়া গেলাম সেইদিন লালবাগ থানায় বাবা সহ। বাবাকে দেখেই ওসি অনেক সম্মান করলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে।আমি সেখান থেকে পালিয়ে ইফতারির পরে মসজিদে আল্লাহ আল্লাহ করছিলাম। ওসি বাবাকে বললেন,আপনার ছেলে দাকুন।আমি কিছুই করবোনা তাকে।আমি আসলাম ওসির সামনে।তারপর বললেন,শুধু মাত্র বাদী(আমার মামা শ্বশুর) এবং আপনার বাবার সম্মানে আমি আপনাকে এরেস্ট করছিনা।তবে আপনি বাদীর (আমার মামা শ্বশুর) সাথে ফোনে খুব খারাপ ব্যাবহার করেছেন,এটা ঠিক হয়নি।আমি জানি আপনার মন-মেজাজ তখন কেমন ছিল।কারন আমিও এই পথের পথিক। :-D (তখন আমি মনে মনে হাসছিলাম অনেক) আমি আপনাদেরকে ছেড়ে দিচ্ছি এখন।কাল সকালে কোর্টে আসবেন আপনি (প্রিয়াকে বললেন)।এসেই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বিস্তারিত বললেই মামলা খালাস হয়ে যাবে।পরের দিন আমরাও রিস্ক না নিয়েও ভাইয়ার সেই এডভোকেট বন্ধুর দ্বারা মামলা খালাসের বেবস্থা করে ফেললাম। সকাল দশটায় ভিকটিমকে (প্রিয়াকে) মহিলা ম্যাজিস্ট্রেট (খুব ইয়াং ছিল ) ভেতরে নিয়ে পার্সোনালি জিজ্ঞেস করে এবং পরেও সে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এখই কথা বললে মামলা খালাস হয়ে যায়।আমি তখন কোর্টের বাহিরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রিয়া যে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বলছে তার কথা সেটা ভিডিও করেছিলাম।:-P পরে সেই ক্লিপ টা মোবাইলের মেমোরি কার্ড নষ্ট হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে যায়। সেইদিনই দুপুরের পরে বাবা নিজেই আমাদের বাসায় নিয়ে যায় একসাথে ইফতারি করার জন্যে।এবং সেইদিনই আমাদের বাসায় মেনে নেয়।বাসায় গেলে বড় ভাবী আমাদের রিসিভ করেন।তখনও বড় ভাই আসেনি অফিস থেকে। ভাইয়া যখন আসে তখন ভাবিকে শিখিয়ে দিলাম রুমে একলা থাকলে যেন আমাকে ডাক দেয় ইশারায়।আমিও সময় মত চলে যেয়ে পায়ে ধরে মাফ চেয়ে নিই। ব্যাস সব ঝামেলা শেষ আমার। !!!!!!!!!!!!!!!!!!!ওয়াও!!!!!!!!!!!!!!!!!! এভাবেই একসময় কিছু দিন পরেই নতুন চাকরি পেয়ে যাই। চলতে থাকে নিজের সংসার। সময় চলে গেছে চার বছর। এখনো আল্লাহর রহমতে প্রিয়া আর আমি আছি একই ছাঁদের নিচে একই আত্মায়।মাগার শরীর দুইটা। আর ওর ফ্যামিলির কথা এখানে উল্লেখ করিনি।এতোটুকুই বলে দেই যে,আমার জীবনে আমি ওর ফ্যামিলির গুটি কয়েকজনকে দেখেছি এবং কথা বলেছি।তাও সামান্য কিছু সময়ের জন্যে।আমার শ্বশুর-শাশুড়ি,মামা-মামি,খালা- খালু,মেঝ মামা-মামি এদেরকেই শুধু।আর এখনো আমার কপালে জোটেনি শ্বশুরবাড়ির আদর। দোষ আমারই ১০০%।এতে কোন ভুল নাই।এই ইতিহাস বললে ভাই আমি মারা যামু লিখতে লিখতে।তাই মারা যাইতে চাইনা।তাই লিখলাম ও না।সেখানেও অনেক সাহসের ব্যাপার আছে।আসলে সাহস তো না। আমি যে বেয়াদব তার প্রমান আছে।বিয়ের আগে আমার মেজাজ আর কাজ কর্ম ছিল এখনের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বিপদজনক।সবকিছু এই নারীই(আমার অর্ধাঙ্গিনী) চেঞ্জ করে দিয়েছে।যা আমি আর ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা সবাইকে ধন্যবাদ আমার বক বক কষ্ট করে পড়ার জন্যে। সবাই ভালো থাকবেন।{


http://www.facebook.com/nipun202?ref=hl

==ভালবাসা এবং প্রতিজ্ঞা==

==ভালবাসা এবং প্রতিজ্ঞা==
শুনেছি প্রেমে পড়লে মানুষ গরু, ছাগল, গাধা, ভেড়া আরো কত্ত কি হয়! তবে আমি কিন্তু এগুলোর একটিও হইনি। কারণ, আমি তো এখনো প্রেমেই পড়িনি! তো প্রেমে না পরার পেছনে বড়-সড় তেমন কোনো কারণ না থাকলেও ছোটখাটো ১টা কারণ অবশ্যই আছে। আর তা হলো আমি এবং আমার এক বন্ধু দুজনে মিলে একটা যৌথ প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে, জীবনে যত কিছুই করি না কেন আমরা কখনো প্রেম করব না। বন্ধুটি অবশ
্য একজনের কাছ থেকে বিশাল টাইপের এক ছ্যাঁকা খেয়ে এরূপ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আর আমি…? তেমন কিছুই না। আসলে বন্ধুর মুখ থেকে ভালোবাসার বিরুদ্ধে ভারী ভারী সব ডায়লগ শুনতে শুনতে এত্ত কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলাম! অবশ্য আমি কিন্তু আমার সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারিনি। কারণ, আমি আবার দুই কথার লোক! অর্থ্যাৎ, সকালে এক কথা বললে বিকেলে আরেক কথা বলে ছাড়ি! বিশেষ করে আমি যা বলি তা না করতেই বেশি আনন্দ পাই! তো প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের প্রধান কারণই ছিল প্রেম। একদিন কোত্থেকে যেন প্রেম নামক এই বস্তুটা উড়ে এসে ধপাস করে আমার মনে বাসা বাঁধল। হঠাৎ করেই আমার ক্লাশে পড়ুয়া এক মেয়েকে আমার ভালো লাগতে শুরু করল। আর এই ভালো লাগাই যে ভালোবাসা তা আজকাল ফিডার খাওয়া শিশুরাও জানে। তো যাই হোক, মাত্র কয়েক দিনের পরিচয়েই আমি মেয়েটার প্রেমে একেবারে দিওয়ানা হয়ে গেলাম। আমি রীতিমত তার প্রেমের স্যুইমংপুলে ডুবে ডুবে জল খাওয়া আরম্ভ করে দিলাম! এখন দিন-রাত ২৪ ঘন্টা আমার মনটা সিলিংফ্যানের মত তার পেছনে ঘুরঘুর করতে লাগল। আমার ধারনা মেয়েটাও আমার প্রেমের সাগরে গড়াগড়ি দিতে শুরু করেছে। কারণ, তার আচার-আচরণ আর ভাষা-ব্যাকরণে আমি এমনটাই যে আভাস পাচ্ছিলাম! এমন পরিস্থিতিতে আমার জয়গায় এখানে অন্য কেউ হলে হয়তো তার ভালোবাসার মানুষের জন্য এতদিনে নতুন কোনো গান আবিষ্কার করে ফেলতেন। আমিও গান গাইতে চেয়েছিলাম কিন্তু গলার যে বেহাল দশা তাতে করে এত্ত বড় রিস্ক নেওয়ার সাহস পাইনি! যাই হোক, এতটা দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও আমি তাকে আমার মনের কথাটা খুলে বলতে পারিনি। আর যেহেতু মেয়েরা ‘বুক ফাটে তবুও মুখ ফোটে না’ নীতিতে বিশ্বাসী তাই ওর কাছ থেকে আগে অফার পাওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তো এভাবে আর কত? ভাবলাম মুখে না হোক অন্তত চিঠি লিখে হলেও তাকে আমার মনের কথাটা জানানো উচিত। যেই ভাবা সেই কাজ। তবে চিঠিটা লিখতে একটু লেট হয়ে গিয়েছিল। কারণ, আমি চিঠি লেখার আগেই একদিন রাতে সে আমাকে ফোন করল। (এ যেন মেঘ না চাইতেই শিলা, বৃষ্টি, বজ্রপাত আরো কত্ত কি!) সে বলল, ‘সুমন তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে’। আমি বললাম, ‘কি কথা বলো’? সে বলল, ‘মোবাইলে বলতে পারব না। সামনা- সামনি বলতে হবে। তুমি কাল সকালে আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবে’? জবাবে আমি কি আর না বলতে পারি! বললাম পারব। তারপর স্পটের নাম বলেই সে ফোন রেখে দিলো। সেদিন তার কথা ভাবতে ভাবতেই আমি সারাটা রাত পার করে দিলাম। দুই. সকাল সাতটা বাজে। আমি জীবনেও এত সকালে ঘুম থেকে উঠি নাই! তবে আজ উঠেছি শুধুমাত্র তার সাথে দেখা করার জন্য। ঘুম থেকে উঠেই ফ্রেশ হয়ে সেজে- গুজে তার সাথে দেখা করার জন্য রওনা দিলাম। পথে এক ফুলওয়ালার কাছ থেকে অনেক রিকোয়েস্ট করে ৫ টাকার ১টা আধমরা গোলাপ ৩ টাকায় কিনতে সক্ষম হলাম। (আফ্টার অল প্রেম-ভালোবাসার বিষয় ফুল ছাড়া খুব একটা জমে না কিনা!) এরপর ফুলটা প্যান্টের পকেটে রেখে তার সমনে উপস্থিত হলাম। ভাবলাম সে যখনই ‘আই লাভ ইউ’ বলবে তখনই ফুলটা বের করে তাকে দিব। আর এই উদ্দেশ্যে আগেই নিজের ডান হাতটা পকেট বরাবর রেডি করে রাখলাম। কিন্তু আফসোস্! সে আমাকে ভালোবাসার কথা বলার জন্য এখানে ডাকেনি। ডেকেছে আমার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার চাওয়ার জন্য! মোবাইলে টাকা ধার চাইলে হয়ত আমি নানান বাহানা তৈরি করে ফেলতাম, এটা ভেবেই মনে হয় সে মোবাইলে টাকা ধার না চেয়ে এভাবে সরাসরি আমাকে এমন বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্র করেছে। উপায় না দেখে অবশেষে প্রেস্টিজ পাংচারের ভয়ে পকেট থেকে ৫০০ টাকার ১টা কড়কড়ে নোট বের করে ওর হাতে দিলাম। টাকা হাতে নিয়ে সে বলল, ‘তুমি রাগ করনি তো’? তখন বুক ভরা হাহাকার থাকা সত্ত্বেও ঠোঁট দুটি কিঞ্চিত বাঁকা করে মুখে হাসির ভাব ফুটিয়ে বললাম, ‘আরে না রাগ করব কেন’? ‘আরো লাগলে তুমি আমাকে বলো’ এটাও বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু যদি সত্যি চেয়ে বসে এই ভয়ে কথাটা আর মুখ থেকে বের করিনি! সেই দিনটি ছিল ১৩ই ফেব্রুয়ারি। ভাবলাম পরেরদিন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এদিন মানুষ তার ভালোবাসার মানুষের জন্য কত কিছুই তো করে। আর আমি না হয় আজ আমার ভালেবাসার মানুষের জন্য এই ৫০০ টাকাই বিসর্জন দিলাম। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে ইতিমধ্যেই সে আমার কাছ থেকে বিদায় নিলো। সাথে নিয়ে গেল আমার দেওয়া ৫০০ টাকা কড়কড়ে নোটটি! অন্যদিকে আমার পকেটে রয়ে গেল আধমরা সেই লাল গোলাপটি। সে যতক্ষনে গেল, ততক্ষনে আমার এই আধমরা গোলাপটি পুরোই মৃত ঘোষিত হলো! ইন্নালিল্লাহে… রাজেউন!! তিন. আজ ১৪ই ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। হঠাৎ করেই প্রিয়ার (ভালোবাসার মানুষ) সাথে আমার দেখা হয়ে গেল। দেখা হতেই সে নিজ থেকে গতকালের টাকা ধার দেওয়ার জন্য আমাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাল আর বলল, কেন টাকা ধার নিয়েছিলাম তা জনতে চাইলে না? যদিও আগ্রহ নেই তবুও বললাম, কেন নিয়েছ? বলল, আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে আমি আমার ভালোবাসার মানুষকে একটা ফতুয়া গিফট করার জন্যই টাকাটা ধার নিয়েছিলাম! কথাটা শোনা মাত্রই যেন মনে মনে খুশিতে লাফ দিয়ে আমি মাটি থেকে প্রায় ২ ফুট উপরে উঠে গেলাম! (আমি আবার লাফা-লাফিতে প্রচন্ড রকমের দুর্বল। যদি সবল হতাম তাহলে এতদিনে অলিম্পিক গেমসে নাম লিখিয়ে বাংলাদেশের জন্য কয়েকটা সোনার মেডেল আনার ব্যবস্থা করে ফেলতাম না!) যেহেতু আমার ধরণা ছিল যে, প্রিয়ার ভালোবাসার মানুষ একমাত্র আমিই। তাই এতটা খুশি হয়েছিলম আর কি! অতঃপর বললাম, তা ফতুয়া কি কেনা হয়েছে? সে বলল, অবশ্যই এবং সেটি তাকে দিয়েই তো বাসায় ফিরছি। এবার আমি কিছুটা অবাক হয়ে বললাম, তাকে… মানে কাকে? জবাবে সে বলল, তোমার বন্ধু আরিফ! এই কথা শুনে আমি অবাক হবো না কি হবো এটা বুঝে ওঠার আগেই প্রিয়া বলল, আরিফ আজ বিকেলে আমাকে চাইনিজ খাওয়াবে। তুমি কি আমাদের সাথে যেতে পারবে? মুখে বললাম, না কাজ আছে। আর মনে মনে বললাম, শালা ভাবলাম কি আর হইলো কি? ব্যাটা নিজেই নিজের প্রতিজ্ঞা ভেঙে বসে আছে! এখন তোদের সাথে চাইনিজে গিয়ে আমার কোনো লাভ নেই। শেষে যদি দুজনে আবেগের বসে আমাকেই খাওয়ার বিল দিতে অনুরোধ করে তবে আমি চোখে সর্ষে, সূর্যমুখী ছাড়াও আরো কত্ত যে বাহারি রকমের ফুল দেখব তার কোনো ইয়াত্তা নেই! ভালোবাসা পাইনি তো কি হয়েছে ভবিষ্যতে পাবো; কিন্তু টাকা খরচ হলে তা আর পাওয়া যাবে না! সেদিন এত্ত বড় একটা শক্ খাওয়ার পরও আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েনি। তবে নিজের মাথায় অন্যের কাঁঠাল ভেঙে খাওয়ার হালকা আভাস যে পাইনি তা কিন্তু নয়। সাথে পেয়েছিলাম হৃদয় পোঁড়ানোর কিঞ্চিত দুর্গন্ধ! এ ঘটনার পর আমি মনে মনে শুধু এতটুকুই চেয়েছি, প্রিয়া যেন আমার পাওনা টাকা সময়মত শোধ করে দেয়। নয়তো আমি আম আর ছালা তো বটেই সাথে বড়া আর খোসাও হারাবো! অতঃপর আমি আবার আমার সেই চিরচেনা প্রতিজ্ঞা করলাম যে, জীবনে যত কিছুই করি না কেন আর কখনো প্রেমের পথে পা বাড়াবো না। তবে এবারো আমি আমার এই প্রতিজ্ঞায় পুরোপুরি অটল থাকতে পারব কিনা এ ব্যপারে কোন গ্যারেন্টি নেই। কারণ, চোখ যেহেতু আছে সেহেতু আবারো যেকোনো সময় যে কাউকে ভালো লাগতেই পারে! পাঠক, আপনারা কি বলেন?

=এত পিচ্ছির প্রেম=

॥তুদে দেখা তোয়ে দানা তানাম॥ প্রেম কি শুধু কিশোর , যুবক আর তরুণদের জন্য ? আজ আপনাদের এক পিচ্চির প্রেমকাহিনী শোনাবো । সত্যি ঘটনা । । শুভ্র , ক্লাস টু এর ছাত্র । দুষ্টুমির রাজা , মনে মনে নায়ক । যৌথ পরিবারের একম
াত্র শিশু সদস্য হওয়ায় অল্প বয়সেই পেকে গেছে । শাহরুখ , হৃতিক এর সকল ডায়ালগ তার মুখস্থ । ইঁচড়ে পাকার সাইড এফেক্ট হিসাবে তার মাথায় ঢুকল বন্ধুদের সামনে হিরো হতে হলে তাকে প্রেম করতে হবে , গার্লফ্রেন্ড বানাতে হবে । কি করা যায় …... টার্গেট করা হল ক্লাসের সবচেয়ে সুইট মেয়ে টুনিকে । এবার মিশনে নামার পালা । ভেবে চিন্তে নামতে হবে , নইলে টিচারের হাতে ধরা খাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা । টিফিনের সময় পাশে কেউ থাকে না , এটাই বেস্ট সময় । প্রথমে প্ল্যান ছিল তার কয়েকজন বন্ধু টুনিকে এটাক করবে , সে যেয়ে হিরোর মতো এন্ট্রি মারবে । কিন্তু কেউ টিচারের মারের ভয়ে রাজি হলনা । কি আর করা , একশন হিরো না হয়ে বাধ্য হয়ে রোম্যান্টিক হিরোর পার্ট নিতে হল । ফিল্মের অনেকগুলি ডায়ালগ থেকে খুব পছন্দের একটি ডায়ালগ সিলেক্ট করা হল , ফুল থেকে চকোলেট দিলে খুশি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি । তাই জমানো টাকা থেকে একটা কিটকেট কেনা হল । শেষ মুহূর্তে কি মনে করে জানি চকোলেটের সাথে একটা ফুল যোগার করে শুভ্র গেল প্রপোজ করতে । সবাই তখন টিফিন খাচ্ছিল বা খেলাধুলায় মগ্ন । বিভিন্ন পজিশনে তার বন্ধুরা পাহারায় আছে , কোন টিচার দেখলেই সংকেত দিবে । অনেক সাহস নিয়ে মামার কৌটো থেকে চুরি করা জেল মাখা চুল আর বোতাম খোলা ইউনিফর্ম নিয়ে শুভ্র গেল টুনির সামনে । টুনি তখন তার বান্ধবীর সাথে টিফিন খাচ্ছিল । বাম হাতে চকোলেট , ডান হাতে ফুল , টুনির সামনে ফিল্মি স্টাইলে হাঁটু গেড়ে বসলো শুভ্র , ফুলটা বাড়িয়ে ধরে মিষ্টি গলায় গান ধরলো............ -তুদে দেকা তো ইয়ে দানা তানাম -পেয়াল হোতা হে দিবানা তানাম -আব ইহা তে কাহা দাউ হাম -তেলে বাঊ মে মাল জাউ হাম ......। চোখ গোল গোল করে তাকিয়ে টুনি বলল- -এই তুবরও , কি বল ? বুজি না তো । টাস্কি খেয়ে গেল শুভ্র । টুনি যে হিন্দি নাও বুঝতে পারে সেটা তো আর চিন্তা করে দেখেনি সে । এখন উপায় ? বন্ধুদের সামনে তার
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

===এত কষ্ট কেন ভালোবাসা===

প্রতি দিন দুজন দুজন কে এক নজর না দেখলে মনে হয় মরে যাবে । এভাবে কেটে যায় ওদের সুখের দিন গুলো। কেটে যায় ছয়টি মাস। একে আসে অন্যনের আর কাছা কাছি । দু হৃদয় মিসে যায় এক হয়ে দুজনাতে ! দুজনে 
ই অপেক্ষায় থাকে কখন সকাল হবে , কখন দেখা হবে।রাত যেন আর কাটে না ! গভীর রাত পর্যন্ত চলে ফেসবুকে আড্ডা । ‘রাত্রি কোথায় তুমি?
’ শ্রাবণ মুঠোফোনে বলে ।
‘কেন’? ‘কেন আবার!’ ‘না,বল না’ ‘চলে এসো, বলবো’।
‘হুম’,আসব না’ ‘হায় জান তাহলে মরে যাব ‘।
‘তাহলে বল’ ‘ওকে,’আশূলীয়া যাব, আসো প্লীজ’।
‘ওকে আসছি’।
”প্লীজ জলদি এসো’ ‘একটু অপেক্ষা কর, আসছি আমি’ ।
‘জলদি’ ‘ওকে বাবা ‘ ‘ I LOVE YOU RATRI’. ‘হুম, I LOVE 2! ফোন রেখে দেয় রাত্রি।শ্রাবণের মনে হল কী যেন হারিয়ে ফেলেছে ও ! অপেক্ষা বড় কষ্টের ।
সময় যেন কাটে না।’ ঊফ কখন অ আসবে’ ।
পকেট থেকে মূঠফোণ টা বেড় করল। রাত্রি কে আবার কল করবে ঠীক তখনই দেখল রাত্রি রিকশা থেকে নামছে।
‘এত দেরী ‘! ‘কী করবো বাবা বাসায়,মা এক গাদা মিথ্যে বলে বেড় হতে হল’।
‘তাই, আমার জন্য মিথ্যে ও বলতে পার’!
হাসছে শ্রাবণ। ‘হুম, তোমার জন্য আমি শোব করতে পারি’। ‘তাই’। ‘হুম’। একটা সিএনজি ডেকে উঠে পরে ওরা আসুলিয়ার উদ্দেশে। * * * * * * * * * * * * * ছোট একটা নৌকা পানিতে ভাসছে। তাতে পাসাপাসি বসে আছে ওরা। নিসচুপ চারিদিক। ‘রাত্রি’ । নিরাবতা ভাঙ্গে শ্রাবণ। ‘বল’। ‘তোমাকে একটা কথা বলা হয়নি’ ‘কি কথা’? ‘আমি আসলে অসুস্থ নই’। ‘জানি আমি’। ‘তুমি জান!’ । অবাক হয় শ্রাবণ। ‘হা, নিলা আমাকে বলেছে।’ ‘তারপর ও তুমি…’ ‘হা, জানতাম তোমাকে কখন ও এড়িয়ে থাকতে পারব না, এক দিন আমাকে ঠিক ই ধরা দিতে হবে!’ ‘তাই!’ ‘হুম’। ‘তুমি খুব ভাল রাত্রি’। ‘তাই’। ‘হুম’। ‘চল তিরে গিয়ে চটপটি খাবো ‘ । ‘চল’। ‘মাঝি তিরে নৌকা বিরাও ।’ ভারা চুকিয়ে রাস্তার পাশে চটপটি’র দোকানে সামনে আসে দাড়ায় ওরা।’ দুই প্লেট চটপটি’। দোকানদার কে বলে ও। ‘তোমার খুব প্রিয় চটপটি’। ‘হুম’। চটপটির প্লেট শেষেতকরে পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে শ্রাবণ। দেখে রাত্রি রেগে যায় । ‘এই এক দম খাবে না আজ’ ‘সুদু একটা’। ‘ও দিন না বললে আর খাবে না।’ ‘আজ ই লাস্ট’। ‘হুম’। ‘শিট! প্যাকেটে একটাও সিগারেত নেই’। ‘খুব ভাল হয়েছে’। ‘তুমি একটু দাড়াও আমি এক প্যাকেট সিগারেত রাস্তার অপার থেকে নিয়ে আসি ‘। বলেই দৌড় দেয় শ্রাবণ। ‘এই না!’ শ্রাবণ রাস্তার এক পাস পেরিয়ে অন্য পাশে চলে আসে । রাত্রি ‘র বারন সুনে না । ২য় রাস্তায় আস্তেই একটা ট্র্যাক এসে সজোরে ধাক্কা দেয় ওকে। রাস্তায় ছিটকে পড়ে শ্রাবণ । সোজা ওর মাথা বরাবর ট্র্যাক টার চাকা চলে যায় । মনে হল যেন মাথার খুলি নারকেলের মত ফাটল। ফিকনি দিয়ে রক্ত রাস্তায় বেরিয়ে পড়ল। শ্রাবণ কাটা মুরগির মত লাফাতে থাকে । চালক বুজতে পেরে দ্রুত কেটে পড়ে। ওপারে সিনেমার মত চেয়ে থেকে চিৎকার দিয়ে ওঠে।’ না’। ‘না শ্রাবণ…। বলে এগিয়ে যায় ওর কাছে । কোলে তুলে নেয় ওর মাথা। রক্তে ভিজে যায় রাত্রি’। ‘রা-ত্রি ‘! বলে নিসঃশব্দ হয়ে যায় শ্রাবণ। ‘ না শ্রাবণ তুমি চলে যেতে পার না!’ রাত্রি’র দুচোখ বেয়ে নেমে আসছে কান্না। ‘কে কোথায় আছো এ্যাম্বুলেন্স ঢাক আমার শ্রাবণ কে বাঁচাতে হবে……’ আকাশে অনেক মেঘ করেছে। টিপ টিপ করে নেমে আসছে ফোটায় ফোটায় । শ্রাবণের রক্ত আর বৃষ্টির পানিতে একাকার হয়ে যায়। রাত্রি দেখতে পায় দূরে একটা এ্যাম্বুলেন্স এগিয়ে আসছে………। *************************** আজ চল্লিশ দিন হল শ্রাবণ চলে গেছে রাত্রি’র জীবন থেকে না ফেরার দেশে। শ্রাবণদের বাড়িতে সবাই জড় হয়েছে । শ্রাবণদের বন্ধুদের কাছে মনে হচ্ছে শ্রাবণ হয়ত কোথায় ও গেছে, ফিরে আসবে সময় হলে। কিন্তু যে চলে যায় সে কি আর ফিরে আসে? কখনও কি কেউ ফিরে এসেছে? রাত্রি’র কাছে বিশ্বাসই হয় না শ্রাবণ নেই। শ্রাবণ ওকে বড় একা করে গেছে। সারা দিন ই ও আনমনা থাকে। কোন কিছুতেই আর আগের মত মন বসাতে পারে না। রাতে গুমটে পারে না। ‘শ্রাবণ যেও না’ বলে চিৎকার করে উঠে। এভাবে চলে যায় দিন ,সাপ্তা, মাস , বছর। সবই ভুলে যায় শ্রাবণ নামে কেউ ছিল এক সময়। ঠিক হয়ে আসে সব।সুদু ঠিক হতে পারেনি রাত্রি। মনে হয় কখনও পারবে না। শ্রাবণকে ও ভুলতে পারছে না। ’শ্রাবণ কেন আমাকে একা করে চলে গেলে’ ‘আমি কি নিয়ে বাঁচব’। তুমি ছারা বেছে কি হবে’। আজ পহেলা ফাগুন। চারদিক বসন্তের হাওয়া। বনে বনে ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে।বেস্ত শহর ঢাকা সেজেছে হলুদে। গাদা ফুল সবার খুপায় শোবা পাচ্ছে। গাদা ফুল আর ফাল্গুন যেন এক হয়ে গেছে। পহেলা ফাগুনে ওরা এসেছিল কাছা কাছি। দুজন হয়েছিল দুজনার । ফাগুন ওদের জন্য নিয়ে এসেছিল ভালবাসা। ফাগুন মানেই প্রেম, ফাগুন মানেই ভালবাসা! ফাগুন মানেই আগুন, ফাগুন মানেই পুড়ে খাঁটি! ফাগুন তোমাকে নিমন্তন। ভালবাসা নিয়ে এসো তুমি সব হৃদয়ে! আজ অনেক দিন পর সাজতে বসল রাত্রি। অনেকক্ষণ ধরে সময় নিয়ে সাজল ও। শ্রাবণের সেই প্রিয় নিল শাড়ি নিল টিপ। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখল আয়নায়। যদি শ্রাবণ বলে ওকে আজ ভাল লাগছে না, তখন কি হবে? এ সাজ ত সুদু শ্রাবণের জন্য! বাসা থেকে বেরিয়ে একটা রিক্সা ঢেকে উঠে বসে ও। রিক্সা চলছে। চারদিক দেখতে দেখতে যাছছে ও। উৎসবের নগর মনে হচ্ছে ঢাকা কে। অনেকেই যাছছে জোড়ায় জোড়ায় । তাদের দিকে দেখে ওর ডান দিকে চোখ বুলাল। জায়গাটা খালি! শ্রাবণ নেই ওখানে।ওর বুকের মাজে হু হু করে উঠে। রিক্সা রমনা পার্কার সামনে এসে থামে। ভারা চুকিয়ে ভিতরে প্রবেশ করে ও। রমনা আছে সেই আগের মত! সেই কিস্নচুরা গাছ টায় ফাগুনের আগুন লেগেছে সেই আগের মত। আজও মেলা বসেছে ।একে একে সব দোকান গুরে দেখে ও। একটা ঝিনুকের দোকানে এসে দাড়ায় ও। আজ থেকে এক বছর আগে শ্রাবণ ওকে কিনে দিয়ে ছিল ঝিনুকের মালা। আজও মালাতা পড়ে এসেছে ও। হাত দিয়ে ছুয়ে দেখে । এখনও শ্রাবণের ছোঁয়া পায় ও। শ্রাবণ মিসে আছে ওর সর্ব অনুভূতিতে। আস্তে আস্তে হেটে হেটে সেই জাউ গাছ টার কাছে চলে আসে ও। গাছের ছায়ায় বসে পড়ে। যেন শ্রাবণের ছায়ায় আছে ও! আনমনা হয়ে যায় ও। দূরে একজন যুবক সিগারেট দড়িয়ে মনের সুখে টানছে। হঠাৎ সে দিকে নজর যায় রাত্রি’র। উঠে দৌড়ে সে দিকে এগিয়ে যায়। যুবকের কাছে এসে এক তানে সিগারেট নিয়ে নেয় ।” না তুমি সিগারেট খাবে না! বলে উম্মাদের মত চিৎকার করে উঠে। যুবক কিছু বুজে উথছে পারছে না এ মেয়ে কেন এমন করছে। অবাক হয়ে সুদু তাকিয়ে র্য সে।”পাগল নয়ত”? বলে যুবক। **************************** এক গোছা রজনিগন্দার ফুল হাতে রাত্রি। এগিয়ে যায় শ্রাবণের কবরের দিকে । ফুন গুল শ্রাবণের মাথার কাছে নামিয়ে রাখে ও। ”ফিস ফিস করে বলে শ্রাবণ কেমন আছো?’ ‘ তুমি দেখে যাও আমি ভাল নেই’। ”তুমি ছাড়া আমি কি ভাবে ভাল থাকি!” শ্রাবণের কবরে মাথা রাখে ও। জড়িয়ে ধরে ।’তুমি কেন আমাকে একা ফেলে চলে এলে”! ”আমি এখন কি নিয়ে বাঁচব”। ”তুমি ছাড়া আমি বেছে থাকতে চাই না শ্রাবণ।” ‘বল আমি এখন কি করব”? রাত্রি কে ছুঁয়ে এক রাশ বাতাস চলে যায়। যেন বলছে বাতাস ”প্রিয়া আমি আছি তোমার নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে”! মেঘে আকাশ ছেয়ে গেছে। টিপ টিপ করে নেমে আসে ধরণির বুকে। বৃষ্টিতে একাকার হয়ে যায় রাত্রি। ভালবাসার কষ্টে ভেসে যায় সব। রাত্রির বুক চিইরে বেরিয়ে আসে ” এত কষ্ট কেন ভালবাসায়” —


http://www.facebook.com/nipun202?ref=hl

===এক বখাটে ছেলে===

< মেয়েটির নাম আফরোজা। কখনো কলেজ মিস দিতনা। কিন্তু সমস্যা করে দিল এক বখাটে। নাম না জানা সেই বখাটে আসলে পিওর বখাটে ছিলনা। সবাই তাকে ভালো ফ্যামিলির ছেলে বলেই জানতো। সে মেয়েটিকে কলেজ থেকে আসার সময় 
প্রেম নিবেদন করত। মেয়েটি অনেক লজ্জা পেত পুরো এলাকার মানুষের সামনে এমন অপদস্থ হতে হত বলে। সে বোরকা পড়া শুরু করলো কিন্তু তাতেও কোন লাভ হলনা। একদিন ছেলেটি ওর হাত ধরে বলে, "জাআআআন কাল আমি তোমাকে সবার সামনে প্রেম নিবেদন করবো, প্লিজ মেনে নিও" এদিকে মেয়েটি ছিল একটু চালাক আর স্মার্ট টাইপের। সে তার এক বান্ধবিকে সব খুলে বলল আর তাকে বলল ছেলেটির বাসা কোথায় এটা জেনে নিতে। বান্ধবিটি আবার ছেলেটিকে চিনতো। এবং বাসা কোথায় তাও জানতো। মেয়েটি বান্ধবিকে নিয়ে বিকেল বেলা ছেলেটির বাসায় গিয়ে ছেলেটির মা-কে সব খুলে বলল। কিন্তু ছেলেটি ভদ্র ঘরের ছেলে বলে তার মা এসব বিশ্বাস করলো না। তখন মেয়েটি একটা চালাকি করলো। সে ছেলেটির মা- কে বলল," অ্যান্টি, আপনি এক কাজ করেন, কাল কলেজে আমার বোরকা পড়ে আপনি যান, তারপর দেখেন কি হয়।!!!" অ্যান্টি যথারীতি পরদিন কলেজে গেলো, ছুটির পর অ্যান্টি কলেজ থেকে বের হল আর ছেলেটিও দৌড়ে দৌড়ে অ্যান্টির সামনে আসলো একগোছা গোলাপ হাতে!! সে এতই উত্তেজিত ছিল যে মেয়েটার সাইজ যে হঠাৎ বড় হয়ে গেলো এটাও খেয়াল করেনি!! সে অতি উত্তেজিত ভঙ্গিতে আনটির হাত ধরে বলল, "জাআআআআন আই রীয়েলি লাভ ইউ"!!! এরপর জাস্ট একটা শব্দ," ঠাশ!!" ছেলেটি গালে হাত দিয়ে রাস্তায় বসে পড়ল আর অ্যান্টি ছেলের এহেন কুকীর্তি দেখে নিজেকে সা্মলাতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো!! [ জয়, আফরোজার জয়, আমাদের সব আপুদের-ই এভাবে এগিয়ে আসতে হবে এসব বখাটেদের শিক্ষা দিতে। আর আমদের ছেলেদেরও উচিত এ ধরনের কিছু ঘটতে দেখলে সামনে এগিয়ে বাধা দেয়া। কারন মেয়েটিতো আমাদের বোনও হতে পারে। ] আপনারা যারা ইভ টিজিং এর বিপক্ষে তারা Like ক্লিক করুন এবন লেখাটি শেয়ার করুন।


http://www.facebook.com/nipun202?ref=hl

শনিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১২

< ♥♥এক পরশ ভালবাসা♥♥

===============
চামেলি ফুফু কানাডা প্রবাসী । ছোট বেলা থেকেই তার নাম শুনে আসছি । সুন্দরী , স্মাট‌,সাহসী, ভদ্র । আরো অনেক বিশেষণ । কিন্তু কখনও আমার সাথে কথা বা দেখা হয়নি । আমাদের পারিবারিক এলবামে তারএকটি সাদা-কালো ছবি আছে ।
হাস্যোজ্জ্বল- প্রাণবন্ত । ফেইসবুকে ছবি দেখেই আমি চামেলী ফুফুকে চিনতে পারলাম । এড ফ্রেন্ড এ ক্লিক করলাম এবং একটা ম্যাসেজ পাঠালাম ।... ফুফু , আমি তোমার চাচাত ভাই
 মাষ্টারের ছেলে , সাগর । ... ফুফু আমার ফ্রেন্ড রিকোয়েষ্টএকসেপ্ট করল এবং লিখল-সাগর , আমি তোমাকে খুব ভালো করে জানি। লেখাপড়ায় তুমি খুব ভালো করেছো এবং এও জানি –তুমি এখন খুব একটা ভালো জব করছো ।.... এরপর কয়েক মাস ফুফু’র সাথে আমার তেমন যোগাযোগ ছিল না ।একদিন মেইলবক্স খুলতেই দেখলাম চামেলি ফুফুর চিঠি ।....সাগর, তোমার কাছে আমি কিছু টাকা পাঠালাম । নীচের দেয়া ঠিকানায় ছালেহা বেগম নামের এক বয়স্ক ভদ্র মহিলা থাকেন । তুমি টাকাগুলো তাঁকে পৌঁছে দেবে । চামেলি ফুপু এভাবে দু’মাস পরপর আমার কাছে টাকা পাঠাতেন আর আমি সে ভদ্র মহিলাকে দিয়ে আসতাম । একদিন কৌতুহলবশত ফুফুর কাছে জানতে চাইলাম, যে মহিলার কাছে তুমি নিয়মিত টাকা পাঠাচ্ছ; তিনি কে ? কেন পাঠাচ্ছ ? এরপর প্রায় চারমাস ফুফু আর আমার সাথে যোগাযোগ করেনি । মনটা খারাপ হল । কেন শুধু কৌতুহল বশত ঐ মহিলার কথাফুফুকে জিজ্ঞাসা করতে গেলাম !চারমাস পর ফুফুর একটা ম্যাসেজ পেলাম । অনেক লম্বা –চওড়া । আমি পড়তে শুরু করলাম ।
....মামুন আমাদের পাড়ার ছেলে । কলেজ থেকে আসার পথে একদিন আমাকে একা পেয়ে মামুন বিনয়ের সাথে বলল, চামেলি , তোমাকে আমিঅনেকদিন থেকে দেখে আসছি । তোমাকে ভীষণ পছন্দ করি আমি । ঠিক ভাষায় প্রকাশ করতে পারছিনা ! আমি ছয় বছর আগে আই, এস, সি পাশ করেছি । বাবা মারা যাবার পর আর পড়ালেখা করিনি ।আমি ঠিক বুঝতে পারছিনা , আমার কথা গুলো তুমি কিভাবে নিচ্ছ ।.........
মামুনকে আমি ভালমত চিনতাম না । পাড়ার ছেলে বলে দু’এক বার দেখেছি মাত্র । রাগে ক্ষোভে আমার গাল - কান লাল হয়ে গেল । মামুনের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বললাম,আপনার সাহস দেখে আমার গা জ্বলে যাচ্ছে। আপনি আর কোনদিন আমার সামনে আসবেন না ।
বছর দু’য়েক পর কানাডা প্রবাসীতোমার এই ফুফার সাথে আমার বিয়ে হয়ে গেল । এরমধ্যে
২.
মামুনকে আর কখনও দেখেছি বলে আমি মনে করতে পারছিনা কিংবা দেখলেও মামুনের চেহারা আমি ভুলে গেছি । বিয়ের ছয় মাস পর আমি কানাডায় পাড়ি জমালাম। তখন আমার হাজবেন্ড একটি মাল্টি ফুড ষ্টোরে চাকুরী করত । কিছুদিন পর চাকুরী ছেড়েসে নিজেই ব্যবসা বাণিজ্যের চেষ্টা করে । বিয়ের পর গত বিশ বছরে সে পাঁচ- পাঁচটি মাল্টি ফুড ষ্টোরের মালিক হয়েছে । শুরু থেকেই আমাদের ষ্টোরগুলোদেখাশোনা করছিল বিশ্বস্ত কম’চারী জলিল মিয়া । জলিল মিয়া গত প্রায় বিশ বছর ধরে আমাদের সাথে । থাকত আমাদের বেইজমেন্টের একটি কামরায় । খাওয়া-দাওয়া আমাদের সাথে । জলিল মিয়ার গালভতি` দাঁড়ি । রোগা প্রকৃতির । চেইন স্মোকার । কিন্তু মনিব ভক্ত কাজ পাগল মানুষ ।সত্যি বলতে কি তার অক্লান্ত পরিশ্রমেই আজ আমরা এত বিত্তশালী ।
বছর খানেক আগের কথা । আমার হাজবেন্ড জরুরী কাজে বাংলাদেশ গেছে । এর পরদিনই জলিল মিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ল ।আমি জলিল মিয়াকে হাসপাতালে ভতি করিয়ে নিজেই ষ্টোর গুলোর দেখাশোনা করতে লাগলাম । দু’দিন পর আবার হাসপাতাল থেকে জরুরী ফোন এল ।জলিল মিয়ার অবস্থা ভীষণ খারাপ । আমি হাসপাতালে ছুটে গেলাম । জলিল মিয়া ততক্ষণে মারা গেছে ।
জলিল মিয়ার পকেটে একটি সংক্ষিপ্ত চিঠি পেলাম –প্রিয়চামেলী , আমার নাম জলিল মিয়া নয় । আমি পাড়ার সে-ই মামুন । সারা জীবন তোমাকে দু’চোখ ভরে দেখব বলে, তোমার কাছাকাছি থাকব বলে আমার এতদূর আসা। মহান সৃষ্টিকতাকে হাজার শোকরিয়া তোমার কাছাকাছিতে আমি সবসময় ভালো ছিলাম। তুমি ভালো থেকো চামেলী । খুব ভালো ।------মামুন ।
যাঁর জন্য আমি তোমার কাছে টাকা পাঠাই, তিনি মামুনের মা । আশাকরি তুমি তোমার প্রশ্নের জবাব পেয়েছো ।চামেলি ফুফু’র অবিশ্বাস্য রকমের চিঠিটি পড়ে আমি নিশ্চুপ বসে রইলাম অনেকক্ষণ । হঠাৎ লক্ষ্য করলাম আমার চোখের কোল বেয়ে পানি পড়ছে ।

< টিপস

নতুন প্রেমিকদের জন্য কিছু টিপস যা মানলে আপনার প্রেমিকা বুঝতে পারবে আপনি তাকে কতটা চান >>

1.প্রেমিকার মোবাইলে টাকা পাঠান(15 টাকার বেশী নয় নাহলে আপনার লস হবে)

2.তাকে মাঝে মাঝে তেতুল কামরাঙ্গা জলপাই গিফট করুন।সাথে একটু লবন দিন মন্দ হবে না (বেশী টাকা খরচা করে বার্গার পিজা কিনতে যাবেন না )

3.তাকে খাওয়া দাওয়া,স্নান এর কথা মনে করিয়ে দিন এবং বলেন তার খাওয়ার পর আপনি খাবেন(আপনি আবুল না হলে তার আগে খেয়ে নিন)

4.আর প্রতিদিন রাত ১টা ২টাই এলার্ম দিয়ে রাখুন তার পর টের পেয়ে তার ফোনে ফুস ফুস করে কয়েকটা মিস কল দিন(কল দিবেননা তাতে টের পেয়ে গেল আপনার লস)

5.সকাল বেলা ও ফোন ব্যাক করলে আপনি বলুন আদরের সাথে জান ♥ রাতে হঠাত্‍ ঘুম ভেঙ্গে গেল মিস করছিলাম তোমাই তাই ফোন দিছিলাম (এতে সে আপনার প্রতি খুশি হবে )

কেমন লাগলো??